বৈপিত্রেয় ভাই কখন সম্পত্তি পায়, কখন পায় না

বৈপিত্রেয় ভাই হলো যাদের বাবা দুই এবং মা এক। ভাইয়ের মৃত্যুর পর বৈপিত্রেয় ভাইয়েরা সম্পত্তি পাবে কি না—এ বিষয়ে আমাদের অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে অনেক সময় ভাইদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা হয়। কখনও ঝগড়া পর্যন্ত গড়ায়। এদিকে আবার অনেকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিতও হন। বৈপিত্রেয় ভাই কখন সম্পত্তি পায়, কখন পায় না—এ বিষয়ে জানা আমাদের জন্য জরুরি।
উত্তরাধিকার আইন নিয়ে ইসলামে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৩৬ নম্বর পৃষ্ঠায় বৈপিত্রেয় ভাইদের সম্পত্তি পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে (ফারায়েজ) রক্তের সম্পর্ক ও আত্মীয়তার ধরন অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তির সুনির্দিষ্ট অংশ বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে এক বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে ‘বৈপিত্রেয় ভাই’ বা আখিয়াফি ভাইয়ের অধিকার।

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে বৈপিত্রেয় ভাই কখন, কতটুকু এবং কোন কোন পরিস্থিতিতে অংশ পাবেন, তা ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। মূলত মৃত ব্যক্তির পরিবারের অন্যান্য নিকটাত্মীয়দের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বৈপিত্রেয় ভাইয়ের উত্তরাধিকার প্রাপ্তির বিধান তিনটি ভিন্ন অবস্থায় বিভক্ত।
বৈপিত্রেয় ভাইয়ের সম্পত্তি প্রাপ্তির তিন অবস্থা
মৃত ভাই বা বোনের পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে বৈপিত্রেয় ভাই তিন ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে অংশ পান। যথা—
১. এক ভাই থাকলে: মৃত ব্যক্তির যদি শুধু একজন বৈপিত্রেয় ভাই থাকে, তবে তিনি নির্ধারিত অংশ হিসেবে সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ পাবেন।
২. একাধিক ভাই থাকলে: বৈপিত্রেয় ভাই একাধিক হলে তারা সম্মিলিতভাবে সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ অংশ পাবেন। পরবর্তীতে এই প্রাপ্ত অংশটি তারা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নেবেন।

৩. নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতিতে স্বত্ববঞ্চনা: মৃত ব্যক্তির যদি কোনো সন্তান বা বংশধর (যেমন: ছেলে, মেয়ে, পৌত্র ইত্যাদি) জীবিত থাকে, অথবা যদি মৃত ব্যক্তির বাবা কিংবা দাদা জীবিত থাকেন, তবে বৈপিত্রেয় ভাই সম্পত্তি প্রাপ্তি থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হবেন।
লেখক পরিচিতি
গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।


