সম্পত্তিতে বৈপিত্রেয় বোনের অধিকার ও অংশ বণ্টনের পদ্ধতি

বৈপিত্রেয় বোন হলো যাদের মা এক কিন্তু বাবা ভিন্ন। মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি থেকে তারা অংশ পাবে কি না, কোন অবস্থায় কতটুকু অংশ পাবে, তা অনেকেরই জানা নেই। ফলে সম্পত্তি থেকে তাদের অনেক সময় বঞ্চিত করা হয়। এ নিয়ে কখনও সম্পর্কও ছিন্ন হয়। বাঁধে ঝগড়াও। তাই ইসলামি বিধান অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টনের মাসয়ালাগুলো জানা প্রয়োজন।
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ফারায়েজ সম্পর্কে ইসলামি আইন ও বিধিবিধানসহ নানা বিষয় নিয়ে ‘ফারায়েজ আইন’ শীর্ষক একটি বই লিখেছেন গাজী শামছুর রহমান। বইটির তৃতীয় অধ্যায়ের ৪০ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘উত্তরাধিকার সম্পত্তিতে বৈপিত্রেয় বোনের তিন অবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।
ইসলামি শরিয়া ও ফারায়েজ আইনে উত্তরাধিকারীদের অধিকার ও অংশ বণ্টনের সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। মৃতের সম্পত্তি থেকে কোন আত্মীয় কতটুকু অংশ পাবেন, তা নির্ধারিত। এর মধ্যে বৈপিত্রেয় বোন অন্যতম একজন ওয়ারিশ।

ফারায়েজ শাস্ত্র অনুযায়ী পরিবারে অন্যান্য নিকটাত্মীয়ের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর নির্ভর করে বৈপিত্রেয় বোনের প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকারকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এক-ষষ্ঠাংশ পাওয়ার অবস্থা
মৃত ব্যক্তির যদি কোনো ছেলে, মেয়ে, নাতি বা নাতনি ইত্যাদি অধস্তন ওয়ারিশ জীবিত না থাকেন এবং শুধু একজন বৈপিত্রেয় বোন থাকেন, তবে তিনি মোট সম্পত্তির ছয় ভাগের এক অংশ পাবেন।
এক-তৃতীয়াংশ পাওয়ার অবস্থা
মৃত ব্যক্তির অধস্তন কোনো সন্তান বা নাতি-নাতনি না থাকলে এবং যদি একাধিক বৈপিত্রেয় বোন থাকেন, অথবা বৈপিত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় ভাই যৌথভাবে থাকেন; তবে তারা সবাই মিলে মোট সম্পত্তির তিন ভাগের এক অংশ পাবেন।
এ ক্ষেত্রে সেই এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি তারা সবাই নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেবেন। ফারায়েজের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো এখানে ভাই বোনের দ্বিগুণ অংশ পাবে না; বরং বৈপিত্রেয় ভাই ও বৈপিত্রেয় বোন সমান অংশ পাবেন।

যে অবস্থায় সম্পত্তি পাবে না
মৃত ব্যক্তির যদি কোনো ছেলে, মেয়ে, নাতি বা নাতনি জীবিত থাকে, তবে বৈপিত্রেয় বোন সম্পত্তির কোনো অংশই পাবেন না। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তির বাবা অথবা দাদা জীবিত থাকলেও বৈপিত্রেয় বোন সম্পত্তি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হবেন।
লেখক পরিচিতি
গাজী শামছুর রহমান (১৯২১-১৯৯৮) বাংলাদেশি আইনবিদ ও আইন সংস্কারক, বিচারক, ভাষাবিদ এবং টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলায় আইনবিষয়ক গ্রন্থ রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক। তিনি ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান। তিনি জেলা জজ ছিলেন। সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন কিছুদিন।