logo

নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে

নিয়মিত হলুদ খেলে শরীরে যে প্রভাব পড়ে
ছবি: বিবিসি গিুড ফুড

শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক কোনো প্রাকৃতিক উপাদান খুঁজছেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, হলুদ (টারমেরিক) হতে পারে একটি কার্যকর বিকল্প। এই উজ্জ্বল হলুদ মসলা তার শক্তিশালী প্রদাহনাশক গুণের জন্য পরিচিত এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

পুষ্টিবিদ গ্যাব্রিয়েল কিশনার বলেন, ‘হলুদের সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং কোলেস্টেরল উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।’

এছাড়া এটি প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং সোরিয়াসিসের মতো প্রদাহজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে বলে জানান তিনি।

আরেক পুষ্টিবিদ জুলিয়ানা ভোক্কা বলেন, ‘কারকিউমিন শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে এবং একই সঙ্গে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রতিরক্ষা বাড়ায়।’

হলুদ কীভাবে প্রদাহ কমায়

প্রদাহের মূল প্রক্রিয়া বন্ধ করে: কারকিউমিন NF-κB নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন কমপ্লেক্সকে বাধা দেয়, যা শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করার সংকেত দেয়। এটি সক্রিয় হলে বিভিন্ন প্রদাহজনিত উপাদান তৈরি হয়, যা শরীরে প্রদাহ বাড়ায়।

প্রদাহজনিত এনজাইম নিয়ন্ত্রণ করে: কারকিউমিন শরীরের কিছু এনজাইম যেমন COX-2, LOX এবং iNOS–এর কার্যক্রম কমিয়ে দেয়। এই এনজাইমগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হলে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি জয়েন্টের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন কমায়: কারকিউমিন সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (CRP)–এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি এমন একটি প্রোটিন, যা শরীরে প্রদাহ থাকলে লিভার থেকে তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কারকিউমিন গ্রহণ করলে এই মাত্রা কমতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা বাড়ায়: কারকিউমিন ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমিয়ে এবং শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রম বাড়িয়ে কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা বয়সজনিত সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণত হলুদ বা এর সাপ্লিমেন্ট নিরাপদ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হালকা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-

  • বমি বমি ভাব
  • এসিডিটি
  • পেটের অস্বস্তি
  • ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
  • দুর্লভ ক্ষেত্রে বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে লিভারের সমস্যা বা আয়রনের ঘাটতি হতে পারে। এছাড়া কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কিছুটা বাড়তে পারে।

কতটুকু গ্রহণ করা নিরাপদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন ০–৩ মি.গ্রা. কারকিউমিন প্রতি কেজিতে গ্রহণ সাধারণত নিরাপদ। তবে গবেষণায় অনেক সময় এর চেয়ে বেশি মাত্রাও ব্যবহার করা হয়েছে।

তবে সঠিক ডোজ নির্ধারণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবার জন্য কি নিরাপদ?

সবাইয়ের জন্য হলুদের সাপ্লিমেন্ট উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে—

  • গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী
  • কিডনি বা পিত্তথলির পাথর রয়েছে এমন ব্যক্তি
  • নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী

এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ভালো সাপ্লিমেন্ট কীভাবে বাছবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে—

  • বিশ্বস্ত কোম্পানির পণ্য বেছে নিন
  • স্বাধীনভাবে পরীক্ষিত (tested) সাপ্লিমেন্ট নির্বাচন করুন
  • ব্ল্যাক পেপার (পাইপেরিন) যুক্ত সাপ্লিমেন্ট নিলে শোষণ ভালো হয়
  • খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে কার্যকারিতা বাড়ে

নিয়মিত হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো একক সমাধান নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ; এসবই সুস্থ থাকার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ইটিং ওয়েল