logo
Advertisement

মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার আগে সতর্ক হোন, ঝুঁকিতে থাকতে পারেন যারা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মেথি ভেজানো পানি খাওয়ার আগে সতর্ক হোন, ঝুঁকিতে থাকতে পারেন যারা
মেথি ও মেথি ভেজানো পানি। ছবি: ফ্রিপিক

মেথি আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত একটি মসলা। ডাল, তরকারি বা নানা ধরনের রান্নায় এর ব্যবহার রয়েছে। আবার স্বাস্থ্য উপকারের আশায় অনেকেই সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল পান করেন। ওজন কমানো থেকে শুরু করে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, নানা কারণে মেথি খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

তবে মেথি প্রাকৃতিক উপাদান বলেই যে সবার জন্য এবং সব পরিমাণে নিরাপদ, তা নয়। বিশেষ করে খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি মেথি নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গর্ভাবস্থা, ডায়াবেটিস, অস্ত্রোপচারের আগে এবং নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থায় মেথি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে খাবারে স্বাভাবিক মসলা হিসেবে অল্প পরিমাণ মেথি এবং বেশি পরিমাণে মেথি বা মেথির সম্পূরক গ্রহণকে একভাবে দেখা উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ হেলথ বা এনসিসিআইএইচ বলছে, খাবারে থাকা স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে বেশি মেথি গর্ভাবস্থায় নিরাপদ নয়। এর সঙ্গে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তাই গর্ভাবস্থায় নিয়ম করে মেথি ভেজানো জল, মেথির গুঁড়া বা মেথির সম্পূরক গ্রহণ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অস্ত্রোপচারের আগে মেথি এড়িয়ে চলবেন?

মেথি নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো রক্তে শর্করা ও রক্ত জমাট বাঁধার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব। টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদনে অস্ত্রোপচারের আগে মেথি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্দিষ্ট কতদিন আগে মেথি বন্ধ করতে হবে, তা সবার জন্য একই নয়। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে মেথি বা কোনো ভেষজ সম্পূরক শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এনসিসিআইএইচও জানায়, মেথি কিছু ওষুধের সঙ্গে ক্ষতিকর পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া করতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে সাবধান

মেথি রক্তে শর্করা কমাতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে প্রমাণ এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। একই সঙ্গে বেশি পরিমাণ মেথি খেলে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

বিশেষ করে ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ ব্যবহার করলে নিয়মিত বেশি পরিমাণ মেথি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কারণ ওষুধের সঙ্গে মেথির প্রভাব যুক্ত হলে রক্তে শর্করা প্রয়োজনের তুলনায় কমে যেতে পারে।

এ কারণে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধের বিকল্প হিসেবে মেথি ব্যবহার করা উচিত নয়।

পেটের সমস্যা থাকলে বাড়তে পারে অস্বস্তি

মেথিতে প্রচুর আঁশ রয়েছে। স্বাভাবিক খাবারের অংশ হিসেবে এটি অনেকের জন্য সমস্যা তৈরি করে না। কিন্তু বেশি পরিমাণে মেথি খেলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এনসিসিআইএইচের তথ্য অনুযায়ী, মেথির সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব এবং অন্যান্য হজমের সমস্যা রয়েছে।

তাই মেথি ভেজানো জল খাওয়ার পর যদি নিয়মিত পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা বা বমি বমি ভাব হয়, তাহলে সেটি চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

মেথিতে অ্যালার্জিও হতে পারে

মেথি সবার শরীরে একইভাবে সহ্য হয় না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া গুরুতরও হতে পারে।

মেথি খাওয়ার পর চুলকানি, ত্বকে র‍্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

থাইরয়েডের ওষুধের সঙ্গে কি সমস্যা হতে পারে?

টিভি৯ বাংলার প্রতিবেদনে থাইরয়েডের ওষুধ খাওয়া ব্যক্তিদের মেথির সঙ্গে ওষুধের অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যবধান রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে এই নির্দিষ্ট ব্যবধানকে সবার জন্য প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা নির্দেশনা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতায় খাবার ও অন্যান্য সম্পূরকের প্রভাব থাকতে পারে। তাই নিয়মিত মেথি ভেজানো জল বা মেথির সম্পূরক গ্রহণ করলে নিজের চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে বিষয়টি জানানোই নিরাপদ।

মেথি কি ওজন কমায়?

মেথিকে ওজন কমানোর সহজ উপায় হিসেবে অনেকে প্রচার করেন। কিন্তু শুধু মেথি ভেজানো জল খেলেই ওজন কমবে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই।

মেথি নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চমানের গবেষণা এখনও যথেষ্ট নয়। এনসিসিআইএইচ বলছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন সমস্যায় মেথির কার্যকারিতা নিয়ে প্রমাণ সীমিত বা অনিশ্চিত।

তাই ওজন কমানোর জন্য মেথির ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, পরিমিত ক্যালরি গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

তাহলে মেথি কি একেবারেই খাবেন না?

এমন নয়। খাবারে সাধারণ মসলা হিসেবে ব্যবহৃত পরিমাণে মেথি সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। সমস্যা বেশি দেখা দিতে পারে যখন খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি মেথি নিয়মিত খাওয়া হয় বা মেথিকে ভেষজ সম্পূরক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

তাই সুস্থ একজন মানুষ রান্নায় পরিমিত মেথি ব্যবহার করলে এবং কোনো অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া না হলে অযথা ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কিন্তু প্রতিদিন খালি পেটে মেথি ভেজানো জল, মেথির গুঁড়া বা বেশি মাত্রার সম্পূরক গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

কারা বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন?

মেথি নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে বিশেষ করে সতর্ক হওয়া উচিত যদি আপনি-

  • গর্ভবতী হন
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান
  • শিগগির অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা থাকে
  • মেথি খেলে পেটের সমস্যা হয়
  • আগে কোনো মসলা বা ভেষজ উপাদানে অ্যালার্জি হয়েছে
  • নিয়মিত একাধিক ওষুধ খান

এসব ক্ষেত্রে মেথিকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ভেষজ উপাদান হলেও ওষুধের সঙ্গে এর পারস্পরিক প্রভাব থাকতে পারে।

মেথি পুষ্টিকর খাবারের অংশ হতে পারে, কিন্তু বেশি খেলেই বেশি উপকার হবে এমন ধারণা ঠিক নয়। বিশেষ করে মেথি ভেজানো জল বা মেথির সম্পূরক নিয়মিত খাওয়ার আগে নিজের শারীরিক অবস্থা ও ব্যবহৃত ওষুধের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।

মেথি খাওয়ার পর যদি বারবার পেটের সমস্যা, অ্যালার্জি বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: টিভি৯ বাংলা