logo

সোডিয়াম কমে গেলে শরীরে কী হয়, দেখা দিতে পারে ৩ লক্ষণ

সোডিয়াম কমে গেলে শরীরে কী হয়, দেখা দিতে পারে ৩ লক্ষণ
ছবি: হেল্থলাইন

খাবারে লবণ কম খাওয়াকে সাধারণত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলেও সমস্যা হতে পারে। সোডিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য, স্নায়ুর কাজ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে তাকে হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু খাবারে লবণ কম খাওয়ার কারণেই সব সময় রক্তে সোডিয়াম কমে যায় না। অতিরিক্ত পানি পান, কিছু ওষুধ, কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা এবং হরমোনজনিত কিছু অবস্থাও এর কারণ হতে পারে।

সোডিয়াম কমে গেলে যে ৩ লক্ষণ দেখা দিতে পারে

মাথা ঘোরা ও দুর্বল লাগা

রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে শরীরের তরলের ভারসাম্যে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

তবে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা শুধু সোডিয়াম কমে যাওয়ার লক্ষণ নয়। পানিশূন্যতা, রক্তচাপের সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অন্য অনেক কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু এসব লক্ষণ দেখে নিজের শরীরে সোডিয়াম কমে গেছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

পেশিতে টান বা দুর্বলতা

সোডিয়াম স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। রক্তে এর মাত্রা কমে গেলে পেশিতে দুর্বলতা, টান বা ক্র্যাম্প হতে পারে।

শরীরচর্চার পর পেশিতে টান ধরলে অনেকেই শুধু লবণের ঘাটতিকে দায়ী করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক কারণও এর পেছনে থাকতে পারে।

বিভ্রান্তি বা আচরণে পরিবর্তন

সোডিয়ামের মাত্রা খুব কমে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। তখন মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো জরুরি পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে হঠাৎ বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

শুধু লবণ কম খেলেই কি সোডিয়াম কমে যায়?

সব সময় নয়। বরং হাইপোনাট্রেমিয়ার অনেক কারণের সঙ্গে খাবারে লবণ কম খাওয়ার সরাসরি সম্পর্ক নেই।

অতিরিক্ত পানি পান করলে শরীরের রক্তে সোডিয়াম পাতলা হয়ে যেতে পারে। কিছু ওষুধ, বিশেষ করে কিছু ধরনের ডাইইউরেটিক বা পানি ঝরানোর ওষুধও রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা কমাতে পারে। কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা হরমোনের কিছু সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।

তাই মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা পেশিতে টান ধরলেই বেশি লবণ খাওয়া শুরু করা ঠিক নয়।

আবার শরীরে সোডিয়াম বেশি হলেও বিপদ

সোডিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি পরিমাণে গ্রহণ করাও ক্ষতিকর। বেশি সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

চিপস, নোনতা বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সস, প্যাকেটজাত স্যুপ, প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং বিভিন্ন প্রস্তুত খাবার থেকেও শরীরে অজান্তে অনেক সোডিয়াম ঢুকতে পারে।

অর্থাৎ শরীরে সোডিয়াম কমে যাওয়ার ভয় থেকে ইচ্ছেমতো বেশি লবণ খাওয়াও সমাধান নয়।

দিনে কতটা লবণ খাওয়া উচিত?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২০০০ মিলিগ্রামের কম সোডিয়াম গ্রহণ করা উচিত। এটি মোটামুটি ৫ গ্রাম লবণের সমান, অর্থাৎ প্রায় এক চা-চামচের চেয়ে সামান্য কম। এই পরিমাণের মধ্যে রান্নায় দেওয়া লবণের পাশাপাশি প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে পাওয়া সোডিয়ামও ধরা হয়।

তাই শুধু রান্নার সময় কতটা লবণ দিচ্ছেন সেটি দেখলেই হবে না। সারাদিনের খাবারে মোট কতটা সোডিয়াম যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

শরীরে সোডিয়াম কমেছে কি না তা শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সাধারণত রক্ত পরীক্ষা করে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা জানা যায়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক প্রস্রাবের পরীক্ষাও করতে পারেন এবং সমস্যার কারণ খুঁজে দেখেন।

বারবার মাথা ঘোরা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, পেশিতে টান, বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথার সঙ্গে বিভ্রান্তি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

সোডিয়াম শরীরের জন্য অপরিহার্য হলেও এর পরিমাণের ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেশি লবণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনই রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে সোডিয়াম কম মনে হলেই খাবারে বাড়তি লবণ যোগ করা উচিত নয়। কারণ হাইপোনাট্রেমিয়ার পেছনে অতিরিক্ত পানি পান থেকে শুরু করে ওষুধ, কিডনি, হৃদ্‌যন্ত্র বা হরমোনজনিত বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। উপসর্গ থাকলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।

সূত্র: আনন্দবাজার