বয়ঃসন্ধিতে ছেলেদের শারীরিক পরিবর্তন, সন্তানকে কীভাবে প্রস্তুত করবেন বাবা-মায়েরা

বয়ঃসন্ধিকাল ছেলে-মেয়ে উভয়ের জীবনেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এই সময় শরীর ও মানসিক অবস্থায় নানা পরিবর্তন আসে। সাধারণত মেয়েদের পরিবর্তন নিয়ে বেশি আলোচনা হলেও ছেলেদের ক্ষেত্রেও একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু অনেক বাবা-মা এ বিষয়ে সন্তানকে ঠিকভাবে বোঝাতে দ্বিধায় থাকেন, যা শিশুর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
বয়ঃসন্ধিতে ছেলেদের শরীরে যেসব পরিবর্তন হয়
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেদের শরীরে হরমোনগত পরিবর্তন শুরু হয়। এই সময় কিছু স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরেকশন বা লিঙ্গোত্থান। সাধারণত ৮ থেকে ৯ বছর বয়স থেকেই এই পরিবর্তন শুরু হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, যা শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশের অংশ।
অনেক সময় ঘুমের মধ্যে বীর্যপাত হতে পারে, যাকে নকটার্নাল এমিশন বা ওয়েট ড্রিম বলা হয়। এটিও বয়ঃসন্ধির স্বাভাবিক একটি অংশ।
ইরেকশন কীভাবে ঘটে
ইরেকশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যখন লিঙ্গের ভেতরের স্পঞ্জের মতো টিস্যুতে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। এর ফলে লিঙ্গ শক্ত ও কিছুটা উঁচু হয়ে যায়। এটি হঠাৎ করেই হতে পারে এবং এর পেছনে কোনো অস্বাভাবিক কারণ থাকে না। শরীরের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হিসেবেই এটি ঘটে।
বাবা-মা কীভাবে কথা শুরু করবেন
এই বিষয়ে কথা বলার সময় বাবা-মায়ের উচিত বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা। লজ্জা বা সংকোচ না করে সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় সন্তানকে বোঝানো জরুরি। শরীরের অন্যান্য অংশের মতোই এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়, এই বার্তা দেওয়া প্রয়োজন। এতে শিশু ভয় বা বিভ্রান্তি অনুভব করে না।
সন্তানকে স্বস্তি দেওয়া জরুরি
সন্তানকে বোঝাতে হবে যে বয়ঃসন্ধিতে শরীরে এমন পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রেই ঘটে। এতে লজ্জার কিছু নেই। তবে এটিও শেখানো দরকার যে এটি একটি ব্যক্তিগত বিষয়। তাই এই নিয়ে সবার সামনে আলোচনা না করাই ভালো।
খোলামেলা যোগাযোগ তৈরি করুন
বাবা-মায়ের উচিত সন্তানকে আশ্বস্ত করা যে শরীর নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে সে যেন নির্দ্বিধায় জিজ্ঞেস করে। এতে সে ভুল তথ্য থেকে দূরে থাকবে এবং সঠিক ধারণা পাবে।
খোলামেলা ও বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ শিশুর মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বয়ঃসন্ধিকাল ছেলেদের জীবনের একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সময়ের পরিবর্তনগুলো সঠিকভাবে বুঝিয়ে বললে শিশু বিভ্রান্ত হয় না এবং আত্মবিশ্বাসীভাবে বড় হতে পারে। বাবা-মায়ের দায়িত্ব হলো সহজ ভাষায় সত্য তথ্য দেওয়া এবং সন্তানের সঙ্গে একটি বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি করা।
সূত্র: নিউজ ১৮