logo
Advertisement

ওজন মাপার সবচেয়ে খারাপ ৭ সময় জানালেন ফিটনেস কোচ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ওজন মাপার সবচেয়ে খারাপ ৭ সময় জানালেন ফিটনেস কোচ
ছবি : সংগৃহীত

খাবার খাওয়ার পর থেকে শুরু করে ব্যায়ামের পরপরই ওজন মাপা, এমন কিছু সময় রয়েছে যখন দাঁড়িপাল্লার সংখ্যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। ফিটনেস কোচ জানিয়েছেন, সঠিক সময়ে ওজন মাপাই প্রকৃত অগ্রগতি বোঝার চাবিকাঠি।

Advertisement

ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন এমন অনেক মানুষের কাছেই ওজন মাপার মেশিন এক ধরনের ভালোবাসা-ঘৃণার সম্পর্কের মতো। একদিন সংখ্যা কমে গেলে মন ভরে যায় আত্মবিশ্বাসে, আবার পরদিন হঠাৎ ওজন বেড়ে গেলে মনে হয় সব পরিশ্রমই যেন বৃথা।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, শরীরের ওজন দিনের বিভিন্ন সময়ে স্বাভাবিকভাবেই ওঠানামা করে। তাই দাঁড়িপাল্লায় হঠাৎ কিছুটা বেশি সংখ্যা দেখালেই যে শরীরে চর্বি বেড়েছে, এমনটা নয়।

খাবার, পানি পান, হরমোনের পরিবর্তন, লবণযুক্ত খাবার, ব্যায়াম কিংবা দিনের কোন সময়ে ওজন মাপা হচ্ছে, এসব বিষয় ওজনের সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক দিনের ওজন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে নিয়মিত একই পদ্ধতিতে ওজন মাপা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি ফিটনেস কোচ রিচা ভার্মা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে এমন সাতটি সময়ের কথা জানিয়েছেন, যখন ওজন মাপলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না।

খাবার বা পানি খাওয়ার পরপরই: খাবার ও পানীয় সরাসরি পাকস্থলীতে জমা থাকে, ফলে সঙ্গে সঙ্গেই ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তবে এটি শরীরের চর্বি বৃদ্ধি নয়, বরং খাবার ও পানির অতিরিক্ত ভর।

মাসিক চলাকালে: নারীদের মাসিকের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পানি জমতে পারে এবং পেট ফাঁপা অনুভূত হতে পারে। এ সময় কয়েক দিনের জন্য ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দেখাতে পারে।

অ্যালকোহল পান করার পর: অ্যালকোহল শরীরের পানির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে। ফলে ওজন সাময়িকভাবে কম বা বেশি দেখা যেতে পারে। তবে এটি প্রকৃত চর্বি কমা বা বাড়ার প্রতিফলন নয়।

ব্যায়াম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে: ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক পানি বের হয়ে যায়। এতে ওজন সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সমপরিমাণ চর্বি ঝরে গেছে।

দিনের যে কোনো এলোমেলো সময়ে: সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খাবার, পানীয়, শারীরিক কার্যকলাপ ও লবণ গ্রহণের কারণে ওজনের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে থাকে। তাই প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ওজন মাপলে সঠিক তুলনা করা কঠিন হয়ে যায়।

অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়ার পর: পিৎজা, চিপস বা অন্যান্য লবণসমৃদ্ধ খাবার শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে সাময়িকভাবে ওজন কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

চিট মিল বা বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পর: কার্বোহাইড্রেট শরীরে গ্লাইকোজেন আকারে জমা থাকে এবং এর সঙ্গে পানি সংরক্ষিত হয়। ফলে এক বা দুই দিনের জন্য ওজন বেড়ে যেতে পারে, যদিও প্রকৃতপক্ষে শরীরের চর্বি বাড়েনি।

খেয়াল রাখবেন, পোশাকও বাড়াতে পারে ওজন। রিচা ভার্মা আরও বলেন, ভারী পোশাক, জুতা বা জ্যাকেট পরে ওজন মাপলেও অতিরিক্ত কিছু ওজন যোগ হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব হালকা পোশাকে ওজন মাপা ভালো।

ওজন মাপার সবচেয়ে ভালো সময় কখন?

ফিটনেস কোচের মতে, ওজন মাপার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর, টয়লেট ব্যবহারের পর এবং কিছু খাওয়ার বা পান করার আগে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতিবার একই নিয়ম অনুসরণ করা। নিয়মিত একই সময়ে ও একই পরিস্থিতিতে ওজন মাপলে শরীরের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝা অনেক সহজ হয়।

ওজন কমানোর যাত্রায় একদিনের সংখ্যার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই দাঁড়িপাল্লার সাময়িক ওঠানামা দেখে হতাশ না হয়ে ধারাবাহিকতার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: এনডিটিভি