Advertisement

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের রহস্য: যে গল্পের আসল গুহার দরজা আজও পুরোপুরি খোলেনি

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের রহস্য: যে গল্পের আসল গুহার দরজা আজও পুরোপুরি খোলেনি
পাহাড়ের পাথুরে দেয়ালের সামনে চল্লিশ চোর।

গভীর জঙ্গলে কাঠ কাটতে গিয়ে এক দিন আলী বাবা দেখতে পেলেন একদল ঘোড়সওয়ারকে। তারা সাধারণ পথিক নয়, তারা চল্লিশ চোর। পাহাড়ের পাথুরে দেয়ালের সামনে এসে দলের নেতা উচ্চারণ করল একটি অদ্ভুত মন্ত্র। মুহূর্তেই খুলে গেল পাথরের দরজা। চোরেরা একে একে গুহার ভেতরে ঢুকে গেল। কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে আবার সেই শব্দ উচ্চারণ করতেই বন্ধ হয়ে গেল দরজা।

Advertisement

দূর থেকে পুরো ঘটনা দেখছিলেন আলী বাবা। চোরেরা চলে যাওয়ার পর সাহস করে তিনি গুহার সামনে দাঁড়ালেন। এরপর সেই জাদুকরি শব্দটি উচ্চারণ করতেই খুলে গেল দরজা। ভেতরে যা দেখলেন, তা যেন স্বপ্নের মতো। সোনা, রুপা, রত্ন আর অগাধ সম্পদে ভরা গুহা।

শৈশব থেকেই আমরা এই গল্প শুনে আসছি। আলী বাবা, চল্লিশ চোর, মরজিয়ানা আর সেই বিখ্যাত মন্ত্র ‘খুল যা সিমসিম’ যেন রূপকথার জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই গল্পের আসল রহস্য গুহার ভেতরের গুপ্তধনে নয়। রহস্য লুকিয়ে আছে গল্পটির জন্মেই।

আলী বাবা কি সত্যিই কোনো মানুষ ছিলেন? চল্লিশ চোর কি কোনো বাস্তব ডাকাত দলের প্রতিচ্ছবি? গুহাটি কি সত্যিই কোথাও ছিল? আর ‘খুল যা সিমসিম’ কথাটিই বা এল কোথা থেকে?

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে বইয়ের সঙ্গে গল্পটিকে আমরা সবচেয়ে বেশি যুক্ত করি, সেই ‘আরব্য রজনী’র প্রাচীনতম পরিচিত আরবি পাণ্ডুলিপিগুলোতে আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পটি পাওয়া যায় না।

আরব্য রজনীর সঙ্গে আলী বাবার সম্পর্ক কোথায়?

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পকে সাধারণত ‘আরব্য রজনী’র অংশ বলা হয়। কিন্তু ‘আরব্য রজনী’ কোনো একক লেখকের লেখা নির্দিষ্ট একটি বই নয়। বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন অঞ্চল ও সংস্কৃতির গল্প জমতে জমতে এটি একটি বিশাল গল্পসংকলনে পরিণত হয়েছে। পারস্য, আরব ও ভারতীয় গল্পের নানা উপাদান এই সাহিত্যভান্ডারে মিশেছে। সময়ের সঙ্গে এর গল্পের সংখ্যা, বিন্যাস ও সংস্করণও বদলেছে।

ইউরোপে ‘আরব্য রজনী’কে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফরাসি প্রাচ্যবিদ আন্তোয়ান গ্যালাঁ। ১৭০৪ থেকে ১৭১৭ সালের মধ্যে তার ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

তবে গ্যালাঁর কাজ ছিল না কেবল একটি আরবি পাণ্ডুলিপি শব্দে শব্দে অনুবাদ করা। তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে গল্প সংগ্রহ করেছিলেন। আর এখানেই আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পের রহস্য আরও গভীর হয়।

গল্পটির সবচেয়ে পুরোনো পরিচিত লিখিত রূপ পাওয়া যায় গ্যালাঁর ফরাসি সংস্করণে। এর অর্থ এই নয় যে গ্যালাঁর আগে গল্পটি মৌখিকভাবে প্রচলিত ছিল না। তবে তারও আগের কোনো নির্ভরযোগ্য আরবি লিখিত উৎস এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

রহস্যের কেন্দ্রে হান্না দিয়াব

এই রহস্যের কেন্দ্রে রয়েছেন এক প্রায় বিস্মৃত গল্পকথক, হান্না দিয়াব। তিনি ছিলেন আলেপ্পোর একজন সিরীয় মারোনাইট খ্রিষ্টান। ১৭০৯ সালে প্যারিসে তার সঙ্গে গ্যালাঁর সাক্ষাৎ হয়। গ্যালাঁর ব্যক্তিগত দিনলিপি থেকে জানা যায়, দিয়াব তাকে একাধিক গল্প বলেছিলেন। এসব গল্পের মধ্যে ‘আলাদিন’-এর গল্পও ছিল। পরবর্তী গবেষণায় আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পের ক্ষেত্রেও দিয়াবের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।

ali baba and 40 thieves

তবে দিয়াবই কি গল্পটির লেখক ছিলেন?

নিশ্চিতভাবে তা বলা যায় না। সম্ভবত তিনি কোনো প্রচলিত লোককাহিনি গ্যালাঁকে শুনিয়েছিলেন। আবার গল্পের বিভিন্ন অংশ তার নিজের গল্প বলার দক্ষতায় নতুন রূপও পেয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ইতিহাসে দিয়াব প্রায় অদৃশ্যই ছিলেন। গ্যালাঁর দিনলিপিতে তার নামের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ ছাড়া তার অবদান সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য ছিল না। ফলে বহু বছর ধরে গ্যালাঁকেই আলাদিন ও আলী বাবার মতো গল্পের প্রধান স্রষ্টা বা রূপদাতা হিসেবে দেখা হতো।

পরে দিয়াবের নিজের লেখা ভ্রমণবৃত্তান্ত ও অন্যান্য গবেষণা সামনে আসায় তার ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়ন শুরু হয়।

আলী বাবা কি সত্যিকারের মানুষ?

এই প্রশ্নের উত্তর বেশ সরল। আলী বাবা যে একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। একই কথা চল্লিশ চোরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। গল্পের কাঠুরে, চোরের দল, গুপ্তধনের গুহা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোকে কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ হিসেবে গ্রহণ করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে গল্পটির পেছনে কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা ছিল না।

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকেই বণিকদের কাফেলা, মরুভূমির পথ, পাহাড়ি গুহা, ডাকাতি ও লুকানো সম্পদ নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত ছিল। এসব বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই কোনো লোককাহিনির কাঠামো তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কোনো গল্প, অঞ্চল বা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে আলী বাবার গল্পের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, তা প্রমাণিত নয়।

চল্লিশ চোরই বা কেন?

গল্পে চোরের সংখ্যা ৪০। এই সংখ্যাটিও পাঠকের কৌতূহল বাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ৪০ একটি পরিচিত প্রতীকী সংখ্যা। ধর্মীয় ও লোককাহিনিতে ৪০ দিন, ৪০ বছর কিংবা ৪০ জনের দলের মতো ব্যবহারের নজির রয়েছে। তাই গল্পের চল্লিশ চোরকে বাস্তব জীবনের কোনো নির্দিষ্ট ৪০ সদস্যের ডাকাত দল হিসেবে দেখার কারণ নেই। লোককাহিনিতে সংখ্যা অনেক সময় আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয় না। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা গল্পকে স্মরণযোগ্য করে তোলে এবং ঘটনাকে প্রতীকী মাত্রা দেয়। আলী বাবার গল্পেও ৪০ সম্ভবত তেমনই একটি সংখ্যা।

গুহাটি কি সত্যিই কোথাও আছে?

আলী বাবার গল্প শুনলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সেই গুহা কোথায়? নেটে বিভিন্ন সময়ে ইরান, ইরাক, সিরিয়া এমনকি মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন গুহাকে আলী বাবার গুহা হিসেবে দেখানো হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রিক নানা গল্পেও এমন দাবি দেখা যায়। কিন্তু ইতিহাসের দৃষ্টিতে এগুলোর কোনোটিকেই আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের আসল গুহা হিসেবে চিহ্নিত করার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। গল্পের গুহাটি মূলত একটি সাহিত্যিক স্থান। বাস্তব কোনো গুহার স্মৃতি থেকে এর ধারণা এসেছে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়।

‘খুল যা সিমসিম’-এর আসল রহস্য

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পের সবচেয়ে বিখ্যাত অংশ অবশ্যই সেই জাদুকরী বাক্য, ‘খুল যা সিমসিম’। ইংরেজিতে এটি পরিচিত ‘Open Sesame’ নামে।

গ্যালাঁর ফরাসি সংস্করণে এর রূপ ছিল ‘Sésame, ouvre-toi’, অর্থাৎ ‘সেসাম, নিজে খোলো’। পরে ইংরেজি অনুবাদের মাধ্যমে ‘Open Sesame’ বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে।

সেসামি বা তিলের শুকনো বীজধারী ফল পাকলে ফেটে গিয়ে বীজ বেরিয়ে আসে। তাই কেউ কেউ মনে করেন, তিলের শুঁটির নিজে থেকে খুলে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য থেকেই গুহার দরজা খোলার সঙ্গে এই শব্দের প্রতীকী সম্পর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এটিকে নিশ্চিত ব্যাখ্যা বলা যায় না। শব্দটির উৎস নিয়ে আরও কিছু ভাষাতাত্ত্বিক তত্ত্ব রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এর পেছনে প্রাচীন সেমিটিক শব্দ বা ধর্মীয় গূঢ় শব্দের সম্পর্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ ‘খুল যা সিমসিম’-এর উৎস নিয়ে যত তত্ত্ব আছে, সেগুলোর সবকটিই সমানভাবে প্রমাণিত নয়। সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হলো, এটি গল্পে ব্যবহৃত একটি জাদুকরি মন্ত্র, যার প্রকৃত উৎস এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

ভুল মন্ত্র বললেই বিপদ

গল্পটির আরেকটি চমৎকার অংশ হলো আলী বাবার ভাই কাসিমের ঘটনা। আলী বাবা যখন গুহার গোপন কথা জানতে পারেন, তখন তার ভাইও সেই সম্পদের লোভে পড়ে যায়। কিন্তু গুহায় ঢোকার পর বের হওয়ার মন্ত্রটি তার মনে থাকে না। সে একের পর এক শস্যের নাম বলতে থাকে। কিন্তু সঠিক শব্দটি মনে করতে পারে না।

alibaba inner

এই দৃশ্যটি শুধু হাস্যরসের জন্য নয়, গল্পের নৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। আলী বাবা যেখানে আকস্মিকভাবে সম্পদের সন্ধান পেলেও গোপনীয়তা বজায় রাখেন, কাসিম সেখানে লোভের বশে আরও বেশি সম্পদ নিতে গিয়ে বিপদে পড়ে।

লোককাহিনির চিরন্তন নিয়মটি এখানেই দেখা যায়। সম্পদ নিজে বিপজ্জনক নয়, কিন্তু সীমাহীন লোভ বিপদ ডেকে আনে।

গল্পের আসল নায়ক কি আলী বাবা?

শিরোনামে আলী বাবার নাম থাকলেও গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রদের একজন মরজিয়ানা। চোরেরা যখন আলী বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে, তখন তাদের নানা ষড়যন্ত্র বুঝে ফেলেন মরজিয়ানা। কখনো তেলের পাত্রে লুকিয়ে থাকা চোরদের পরিকল্পনা, কখনো ছদ্মবেশের ফাঁদ, সবকিছুর মোকাবিলা করেন তার বুদ্ধি ও উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে। এ কারণে গল্পের নৈতিক বিজয় শুধু আলী বাবার নয়। মরজিয়ানা দেখিয়ে দেন শক্তি কিংবা সম্পদের চেয়ে বুদ্ধি অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

আধুনিক পাঠে এই চরিত্রটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট। একজন নারী, যিনি সামাজিকভাবে ক্ষমতাবান অবস্থানে নেই, তিনিই শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর অপরাধীদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন।

আরব্য রজনীর গল্পগুলো কি সব আরবি?

এখানেও রয়েছে একটি সাধারণ ভুল ধারণা। ‘আরব্য রজনী’কে শুধু আরবদের গল্পের বই ভাবলে এর দীর্ঘ ইতিহাস বোঝা যায় না। গল্পসংকলনটির গঠনে ভারতীয়, পারস্য ও আরব বিশ্বের নানা গল্পের প্রভাব রয়েছে। শত শত বছর ধরে গল্পগুলো এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ভ্রমণ করেছে। কোনো গল্প অনুবাদ হয়েছে, কোনোটি নতুনভাবে বলা হয়েছে, আবার কোনোটি স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে নতুন রূপ পেয়েছে। আলী বাবা ও চল্লিশ চোরও সম্ভবত এমন একটি দীর্ঘ মৌখিক ঐতিহ্যের অংশ।

গল্পটির প্রথম পরিচিত লিখিত রূপ যখন গ্যালাঁর ফরাসি অনুবাদে দেখা যায়, তখন সেটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, লোককাহিনির জন্ম সব সময় বইয়ের পাতায় হয় না। অনেক গল্পের জন্ম হয় মানুষের মুখে।

গ্যালাঁ কি গল্পটি বানিয়ে নিয়েছিলেন?

এ প্রশ্ন একসময় গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আলী বাবা ও আলাদিনের মতো জনপ্রিয় গল্পের ক্ষেত্রে গ্যালাঁর আগের নির্ভরযোগ্য আরবি লিখিত উৎস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তী সময়ে কিছু আরবি পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কয়েকটি যে গ্যালাঁর ফরাসি সংস্করণ থেকে পরে আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছিল, এমন প্রমাণও সামনে আসে। ফলে সেগুলোকে গ্যালাঁর আগের মূল উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। তবে তাই বলে গ্যালাঁ নিজেই সব গল্প বানিয়েছিলেন, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।

ali baba

কারণ তার নিজের দিনলিপিতে হান্না দিয়াবের সঙ্গে সাক্ষাতের তথ্য রয়েছে এবং দিয়াব যে তাকে বহু গল্প বলেছিলেন, তারও প্রমাণ পাওয়া যায়। বরং বর্তমান গবেষণার আলোকে বেশি যুক্তিসঙ্গত ধারণা হলো, গ্যালাঁ মৌখিক গল্প শুনেছিলেন এবং সেগুলোকে ইউরোপীয় পাঠকের উপযোগী সাহিত্যিক রূপ দিয়েছিলেন।

এক লোককাহিনি কীভাবে বিশ্বজয় করল?

১৮ শতকে গ্যালাঁর ফরাসি সংস্করণ প্রকাশের পর ‘আরব্য রজনী’ ইউরোপে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরপর গল্পগুলো ইংরেজি, জার্মান, ইতালীয়, স্প্যানিশসহ নানা ভাষায় অনূদিত হতে থাকে। আলী বাবা তখন আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের একটি লোককাহিনি রইল না। গল্পটি চলে গেল মঞ্চে, শিশুসাহিত্যে, চিত্রকলায়, সিনেমায় এবং পরে টেলিভিশন ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে। ১৯ শতকের মধ্যে ‘Open Sesame’ ইংরেজি ভাষায় একটি প্রচলিত রূপক অর্থও পেয়ে যায়। কোনো কঠিন দরজা খুলে দেওয়ার সহজ উপায় বা কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার কার্যকর চাবিকাঠি বোঝাতেও শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অর্থাৎ একটি কাল্পনিক গুহার মন্ত্র শেষ পর্যন্ত বাস্তব ভাষার অংশ হয়ে গেল।

সবচেয়ে বড় গুপ্তধন কোথায়?

আলী বাবা ও চল্লিশ চোরের গল্পে গুপ্তধনের কথা আছে। কিন্তু কয়েক শত বছর পর দাঁড়িয়ে গল্পটির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সম্ভবত সোনা বা রত্ন নয়। তা হলো গল্প বলার ক্ষমতা। একটি মৌখিক কাহিনি কীভাবে এক গল্পকথকের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে যায়, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় বদলে যায়, তারপর একটি বইয়ের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে, আলী বাবার গল্প তার অসাধারণ উদাহরণ।