যে বছরে পৃথিবী ‘ঋতুর নিয়মই’ ভুলে গিয়েছিল
-4588ee-720x405.webp)
ক্যালেন্ডারে তখন জুন মাস, গ্রীষ্মকাল চলছে। কিন্তু জানালার বাইরে তাকালে মনে হচ্ছে, শীত এখনও শেষ হয়নি। মাঠের ঘাসের ওপর বরফের আস্তরণ। গাছের পাতায় জমে আছে সাদা তুষার। বাতাসে গ্রীষ্মের উষ্ণতা নেই, বরং হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। কৃষকের চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল। মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আবার গায়ে চাপাচ্ছে শীতের পোশাক।
আজকের দিনে এমন দৃশ্য কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু ২০০ বছরেরও বেশি আগে পৃথিবীর লাখো মানুষ এমনই এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল।
সালটি ছিল ১৮১৬। ইতিহাসে বছরটি পরিচিত হয়ে আছে একটি বিশেষ নামে, যে বছরে ছিল না গ্রীষ্ম। ইংরেজিতে বলা হয় ‘The Year Without a Summer’।
এটি কোনো পৌরাণিক কাহিনি নয়। কোনো কল্পবিজ্ঞানও নয়। একটি আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাত কীভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের আবহাওয়া বদলে দিয়েছিল, ১৮১৬ সাল তার এক অসাধারণ উদাহরণ।
আর এই অদ্ভুত বছরটির গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুর্ভিক্ষ, খাদ্যসংকট, মানুষের অভিবাসন, অস্বাভাবিক সূর্যাস্ত এবং বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত উপন্যাস ‘Frankenstein’-এর জন্ম।
গল্পের শুরু ১৮১৫ সালে
ঘটনার শুরু ১৮১৬ সালে নয়, তার এক বছর আগে, ১৮১৫ সালের এপ্রিল মাসে। বর্তমান ইন্দোনেশিয়ার সুম্বাওয়া দ্বীপে দাঁড়িয়ে ছিল মাউন্ট তাম্বোরা নামে একটি বিশাল আগ্নেয়গিরি। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়টি ছিল শান্ত। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ছিল পরিচিত একটি পাহাড়। কিন্তু ১৮১৫ সালের এপ্রিল মাসে হঠাৎ সেটি ভয়ংকরভাবে জেগে ওঠে। শুরু হয় এক বিশাল অগ্ন্যুৎপাত।
বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে কয়েক শ কিলোমিটার দূর থেকেও তা শোনা গিয়েছিল। দূরের মানুষ প্রথমে বুঝতেই পারেনি কী ঘটছে। কেউ কেউ ভেবেছিল, হয়তো যুদ্ধের গোলাগুলির শব্দ। কিন্তু যুদ্ধ নয়, প্রকৃতি তখন নিজের শক্তির পরিচয় দিচ্ছিল।

অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে আকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল বিপুল ছাই, ধোঁয়া, গ্যাস ও আগ্নেয় পদার্থ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। আশপাশের এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সরাসরি অগ্ন্যুৎপাতের পাশাপাশি পরবর্তী খাদ্যসংকট ও রোগে মিলিয়ে হাজার দশেক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে তাম্বোরার সবচেয়ে বড় প্রভাব তখনও পৃথিবী দেখতে শুরু করেনি।
আকাশে উঠে অদৃশ্য এক পর্দা
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের সময় বিপুল সালফার ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলের অনেক উঁচু স্তরে উঠে যায়। সেখানে গিয়ে এই গ্যাস রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষুদ্র সালফেট কণায় পরিণত হয়। অসংখ্য কণা বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়ে তৈরি করে এক ধরনের অ্যারোসল স্তর।
এটি দেখতে মেঘের মতো ছিল না। কিন্তু কাজ করেছিল অনেকটা সূর্যের সামনে পাতলা পর্দার মতো। এই কণাগুলো সূর্যের কিছু আলো ও শক্তি মহাশূন্যে ফিরিয়ে দিতে শুরু করে। ফলে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছানো সৌরশক্তির পরিমাণ কমে যায়। এতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কমে যায়। পরিবর্তনটি সংখ্যায় খুব বড় মনে না হলেও বৈশ্বিক জলবায়ুর ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল বিশাল।
আর তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রকাশ দেখা গেল ১৮১৬ সালে।
গ্রীষ্মের বদলে নেমে এল শীত
১৮১৬ সালের বসন্ত থেকেই উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া অস্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। তারপর এল জুন। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও কানাডার কিছু এলাকায় গ্রীষ্মের মাঝেও তুষারপাত হলো। অনেক জায়গায় রাতের তাপমাত্রা এত কমে গেল যে জমিতে থাকা ফসল নষ্ট হয়ে গেল। ইউরোপের বিভিন্ন অংশেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। গ্রীষ্মের বদলে ছিল ঠান্ডা, মেঘলা আকাশ এবং টানা বৃষ্টি।
মানুষ শীতের পোশাক গুছিয়ে রেখেছিল। আবার সেগুলো বের করতে হলো। কৃষকেরা যে ঋতুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, সেটি যেন এলই না। কোথাও তুষারপাত, কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি, কোথাও আবার দিনের পর দিন সূর্যের দেখা নেই।
আজকের পৃথিবীতে আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন হলে স্যাটেলাইট, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তার মাধ্যমে মানুষ দ্রুত জানতে পারত। কিন্তু ১৮১৬ সালে মানুষের হাতে এমন কোনো প্রযুক্তি ছিল না। তারা শুধু অস্বাভাবিকতাটুকু দেখতে পাচ্ছিল। কারণটি জানত না।
সবচেয়ে বড় আঘাত এল মাঠে
প্রকৃতির এই অস্বাভাবিক আচরণের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রভাব পড়েছিল কৃষিতে। তখন মানুষের জীবন ছিল কৃষিনির্ভর। আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা ছিল না। এক দেশ থেকে আরেক দেশে দ্রুত খাদ্য পাঠানোর ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। একটি পরিবারের সারা বছরের খাবার অনেকটাই নির্ভর করত নিজের জমির ফসলের ওপর। কিন্তু ১৮১৬ সালে সেই জমিই যেন মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।
ভুট্টা, গম, ওটস, আলুসহ বিভিন্ন ফসল অতিরিক্ত ঠান্ডা ও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলো। কোথাও চারা মারা গেল, কোথাও ফসল পরিপক্ব হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেল।

কৃষকের সামনে তখন দুটি ভয়ংকর বাস্তবতা। ফসল নেই। আর ফসল না থাকলে খাবারও নেই। খাবারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ল মানুষের কষ্টও। ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে খাদ্যের সরবরাহ কমে গেল। স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়তে শুরু করল। দরিদ্র মানুষের জন্য পরিস্থিতি দ্রুত কঠিন হয়ে উঠল।
যে পরিবারগুলো আগে কোনোভাবে খাবার জোগাড় করতে পারত, তারাও সমস্যায় পড়ল। অনেক জায়গায় মানুষ কম খাবার খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হয়।
ক্ষুধার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিল অপুষ্টি
অপুষ্টি শরীরকে দুর্বল করে। আর দুর্বল শরীর রোগের সঙ্গে লড়াই করতে পারে কম। এভাবেই আবহাওয়ার একটি সংকট ধীরে ধীরে খাদ্যসংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসংকটে পরিণত হয়েছিল।
পশুর খাবারের সংকটও তৈরি হয়েছিল। শস্যের ঘাটতির কারণে গবাদিপশু ও ঘোড়ার জন্য খাদ্য জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘোড়া তখন পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে খাদ্য ও পণ্য পরিবহনেও সমস্যা তৈরি হয়।
মানুষকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হতে হলো
পরিস্থিতির কারণে অনেকেই অন্য জায়গায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ খাবার ও কাজের সন্ধানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে শুরু করে। উত্তর আমেরিকাতেও কৃষির ওপর নির্ভরশীল কিছু পরিবার নতুন ও তুলনামূলক উর্বর জমির সন্ধানে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে।
অবশ্য মানুষের এই অভিবাসনের পেছনে শুধু ১৮১৬ সালের আবহাওয়া ছিল না। জমির সুযোগ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য সামাজিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু অস্বাভাবিক আবহাওয়া অনেক পরিবারের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছিল।
আকাশে দেখা গেল অদ্ভুত সূর্যাস্ত
১৮১৬ সালের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল আকাশের অস্বাভাবিক রঙ। সন্ধ্যার সময় সূর্য ডোবার আগে আকাশে দেখা যেত লাল, কমলা ও হলুদাভ নানা রঙ। সূর্যাস্ত অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল ও নাটকীয় মনে হতো।
তখনকার মানুষ অবশ্য এর বৈজ্ঞানিক কারণ জানত না। অদ্ভুত আবহাওয়া, ঠান্ডা আর বৃষ্টির সঙ্গে আকাশের এই পরিবর্তন তাদের কাছে আরও রহস্যময় মনে হয়েছিল।
বৃষ্টির মধ্যে জন্ম নিল ‘Frankenstein’
১৮১৬ সালের সেই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সবচেয়ে আশ্চর্য গল্পটি অবশ্য খাবার বা কৃষি নিয়ে নয়। গল্পটি সাহিত্য নিয়ে।
সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভার কাছে তখন কয়েকজন তরুণ লেখক ও তাদের বন্ধু গ্রীষ্ম কাটাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কবি লর্ড বায়রন, পার্সি বিশি শেলি, মেরি গডউইন এবং চিকিৎসক জন পলিডোরি। তারা সেখানে গিয়েছিলেন গ্রীষ্মের অবকাশ কাটাতে। কিন্তু গ্রীষ্ম তাদের প্রত্যাশামতো হলো না। দিনের পর দিন বৃষ্টি। ঠান্ডা বাতাস। মেঘে ঢাকা আকাশ। বাইরে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ খুব কম।
অবশেষে সময় কাটানোর জন্য তারা বই পড়া, আলোচনা এবং গল্প লেখার দিকে ঝুঁকলেন।
একসময় লর্ড বায়রন প্রস্তাব দিলেন, সবাই একটি করে ভৌতিক গল্প লিখবেন। সেখানেই মেরি গডউইনের কল্পনায় জন্ম নিল এক ভয়ংকর দৃশ্য। একজন বিজ্ঞানী মৃতদেহের অংশ ব্যবহার করে একটি প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। প্রাণহীন সেই দেহ হঠাৎ জীবিত হয়ে উঠছে। বিজ্ঞানী নিজের সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে বুঝতে পারছেন, তিনি এমন কিছু করেছেন যার পরিণতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এই ধারণাই ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাসে রূপ নেয়।
১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘Frankenstein; or, The Modern Prometheus’। মেরি শেলি তখনও খুব তরুণ। আজ ‘Frankenstein’ শুধু একটি ভৌতিক গল্প নয়। এটি বিজ্ঞান, নৈতিকতা, মানুষের সীমা এবং স্রষ্টার দায়িত্ব নিয়ে গভীর প্রশ্ন তোলা একটি সাহিত্যকর্ম। আর এর জন্মের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ১৮১৬ সালের সেই বৃষ্টিভেজা গ্রীষ্ম।
বিজ্ঞান অবশেষে রহস্যের উত্তর খুঁজে পেল
১৮১৬ সালের মানুষ জানত না কেন গ্রীষ্ম হারিয়ে গেল। তারা দেখেছিল তুষারপাত। দেখেছিল বৃষ্টি। দেখেছিল ফসল নষ্ট হতে। দেখেছিল অদ্ভুত সূর্যাস্ত। কিন্তু কারণটি তাদের অজানা ছিল।
আজ বিজ্ঞান অনেক দূর এগিয়েছে। গবেষকেরা বরফের স্তর, গাছের বলয়, আগ্নেয়গিরির ছাই, ঐতিহাসিক আবহাওয়ার নথি এবং জলবায়ুর নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৮১৬ সালের ঘটনাকে পুনর্গঠন করেছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন, তাম্বোরার অগ্ন্যুৎপাতের পর বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া সালফেট অ্যারোসল সূর্যের আলোকে আংশিকভাবে আটকে দিয়েছিল।

তবে শুধু এটিই সব নয়। তখনকার অন্যান্য জলবায়ুগত পরিস্থিতিও অস্বাভাবিক ঠান্ডা ও বৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। অর্থাৎ, তাম্বোরা ছিল বড় একটি ধাক্কা, যার সঙ্গে অন্যান্য প্রাকৃতিক জলবায়ুগত কারণ মিলেই তৈরি হয়েছিল ১৮১৬ সালের সেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
এক বছরের প্রভাব ছিল বহু বছর
১৮১৬ সাল শেষ হয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে পৃথিবীর আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। কিন্তু মানুষের জীবনে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা এক বছরেই শেষ হয়নি। ফসল নষ্ট হওয়ার প্রভাব পড়েছিল পরবর্তী খাদ্য সরবরাহে। অনেক পরিবার দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছিল। কেউ ঘর ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিল। কোথাও রোগ ও অপুষ্টি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল।
আর সাহিত্যজগতে সেই বছর রেখে গিয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক উত্তরাধিকার। মেরি শেলির ‘Frankenstein’ আজও মানুষের মনে প্রশ্ন তোলে, বিজ্ঞান কি সবকিছু করতে পারে? মানুষ যদি কোনো কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে সেই সৃষ্টির প্রতি তার দায়িত্ব কতটা?
দুই শতাব্দী আগে লেখা সেই প্রশ্নগুলো আজও অপ্রাসঙ্গিক হয়নি।
যে বছরটি আমাদের সতর্ক করে
১৮১৬ সালের গল্প তাই শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া গ্রীষ্মের গল্প নয়। এটি মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর জলবায়ু কতটা সংবেদনশীল। একটি আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছিল ইন্দোনেশিয়ায়। তার প্রভাব অনুভূত হয়েছিল ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বহু দূরের মানুষের জীবনে।
আকাশের রঙ বদলেছিল। তাপমাত্রা কমেছিল। ফসল নষ্ট হয়েছিল। খাবারের দাম বেড়েছিল। মানুষ ঘর ছেড়েছিল। আর একটি বৃষ্টিভেজা গ্রীষ্মে জন্ম নিয়েছিল ‘Frankenstein’-এর মতো একটি অমর সাহিত্যকর্ম।
১৮১৬ সালের মানুষ হয়তো জানত না যে তারা একটি ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যে বাস করছে। তারা শুধু চেয়েছিল গ্রীষ্ম ফিরে আসুক।
অবশেষে গ্রীষ্ম ফিরেছিল।
সূর্য আবার উজ্জ্বল হয়েছিল। মাঠে আবার ফসল ফলেছিল। মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু ১৮১৬ সালের গল্প থেকে গেছে।



