ব্রেন টিউমারের যেসব লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়

মাথাব্যথা, খিঁচুনি, শরীরের দুর্বলতা কিংবা কথা বলতে সমস্যা। অনেকেই এসবকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এগুলো ব্রেন টিউমারের সতর্ক সংকেতও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক শরীরের প্রতিটি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে বলে ছোট একটি টিউমারও গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষণগুলো দ্রুত শনাক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর ৮ জুন বিশ্ব ব্রেন টিউমার দিবস পালন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ব্রেন টিউমার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, প্রাথমিক লক্ষণগুলো মানুষকে জানানো এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা।
ভারতের নয়ডার ফোর্টিস হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের পরিচালক ডা. জ্যোতি বালা শর্মার মতে, টিউমারের অবস্থান ও আকার অনুযায়ী উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।
দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বাভাবিক মাথাব্যথা
মাথাব্যথা খুব সাধারণ সমস্যা। তবে সব মাথাব্যথা একরকম নয়। মস্তিষ্ক খুলির ভেতরে সীমিত জায়গায় থাকে। সেখানে টিউমার তৈরি হলে মাথার ভেতরের চাপ বাড়তে পারে, যা মাথাব্যথার কারণ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মাথাব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে, আগের চেয়ে বেশি তীব্র হয়, দীর্ঘসময় থাকে, ভোরে বেশি অনুভূত হয়, ঘুম ভেঙে দেয় অথবা বমি বমি ভাব ও বমির সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খিঁচুনি বা হঠাৎ ফিট হওয়া
মস্তিষ্ক বৈদ্যুতিক সংকেতের মাধ্যমে কাজ করে। টিউমার মস্তিষ্কের টিস্যুতে চাপ সৃষ্টি করলে সেই সংকেতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ফলে খিঁচুনি বা ফিট হতে পারে।
বিশেষ করে আগে কখনও খিঁচুনি হয়নি, এমন কারও হঠাৎ ফিট হওয়া সতর্ক সংকেত হতে পারে। এতে শরীর কাঁপা, জ্ঞান হারানো, কিছু সময় ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যেতে পারে।
শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া
মস্তিষ্ক শরীরের চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে। ডান পাশের মস্তিষ্ক শরীরের বাম পাশ এবং বাম পাশের মস্তিষ্ক শরীরের ডান পাশ নিয়ন্ত্রণ করে। টিউমার কোনো অংশে চাপ দিলে হাত বা পায়ে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
অনেক সময় হাঁটতে সমস্যা হয়, বারবার হোঁচট খাওয়া, ভারসাম্য হারানো বা সমন্বয় করতে অসুবিধা হয়। এসব উপসর্গ সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
কথা বলতে বা বুঝতে সমস্যা
মস্তিষ্কের কিছু অংশ ভাষা ও কথাবার্তা নিয়ন্ত্রণ করে। টিউমার সেই অংশে প্রভাব ফেললে কথা জড়িয়ে যেতে পারে, ভুল শব্দ ব্যবহার হতে পারে বা কথা বলতে গিয়ে সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
কখনও অন্যের কথা বুঝতেও সমস্যা হতে পারে। শুরুতে এসব পরিবর্তন খুব সূক্ষ্ম হতে পারে, তবে পরিবারের সদস্যরা আগে বুঝতে পারেন।
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন
চোখ ঝাপসা দেখা, ডাবল দেখা, পাশের জিনিস না দেখা বা এক চোখে কম দেখা মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
কিছু মানুষের দূরত্ব বুঝতে সমস্যা হয় বা পাশের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। যেহেতু এসব ধীরে ধীরে হয়, তাই অনেকে সাধারণ চোখের সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সব মাথাব্যথা বা খিঁচুনি যে ব্রেন টিউমারের কারণে হয়, তা নয়। অনেক অন্য রোগেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে, আগের চেয়ে বাড়তে থাকলে বা একাধিক সমস্যা একসঙ্গে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসা সহজ হয় এবং জটিলতা কমানো সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি



