logo

বিশ্ব প্রাণী দিবস আজ

বিশ্ব প্রাণী দিবস আজ
ছবি: ভিক্টেজি

প্রাণী আমাদের চারপাশের প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাখির ডাক, রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুর-বিড়াল কিংবা বনে থাকা বন্যপ্রাণী, সবাই মিলে তৈরি করে আমাদের পরিবেশের বৈচিত্র্য। কিন্তু মানুষের অসচেতনতা, আবাসস্থল ধ্বংস, শিকার, নির্যাতন ও অবহেলার কারণে প্রতিদিনই অনেক প্রাণী নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

প্রাণীদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দিতে প্রতি বছর ৪ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব প্রাণী দিবস। আজ ৪ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিশ্ব প্রাণী দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাণীদের কল্যাণ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা। শুধু পোষা প্রাণী নয়, বন্যপ্রাণীসহ সব ধরনের প্রাণীর নিরাপত্তা, অধিকার ও ভালো থাকার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে এই দিন।

প্রাণীরাও অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। তারা ভয় পায়, ব্যথা অনুভব করে এবং নিরাপদ পরিবেশে বাঁচতে চায়। তাই অকারণে কোনো প্রাণীকে আঘাত করা, ভয় দেখানো বা নির্যাতন করা মানবিক আচরণ নয়।

এই দিবস মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রাণীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা শুধু ভালো কাজ নয়, বরং একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশের জন্যও জরুরি।

৪ অক্টোবর কেন বিশ্ব প্রাণী দিবস?

বিশ্ব প্রাণী দিবসের সঙ্গে ৪ অক্টোবর তারিখটির একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এই দিনটি খ্রিষ্টীয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে সেন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসির স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রাণী ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার জন্য পরিচিত ছিলেন।

১৯২৫ সালে জার্মান লেখক ও প্রাণী অধিকারকর্মী হাইনরিখ জিমারম্যান বার্লিনে প্রথম প্রাণী দিবসের আয়োজন করেন। পরে ৪ অক্টোবরকে বিশ্ব প্রাণী দিবস হিসেবে পালন করার প্রচলন তৈরি হয়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণীকল্যাণ নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


শুধু পোষা প্রাণী নয়, সব প্রাণীর জন্যই এ দিবস

অনেকেই মনে করেন প্রাণীকল্যাণ মানেই কুকুর বা বিড়ালের যত্ন নেওয়া। বিষয়টি আসলে আরও বড়। গৃহপালিত প্রাণী, পাখি, বন্যপ্রাণী এবং রাস্তায় থাকা প্রাণী সবাই এর আওতায় পড়ে।

একটি পোষা প্রাণীকে বাড়িতে রাখলে তার খাবার ও পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাস্তায় থাকা প্রাণীদের ক্ষেত্রেও অকারণে তাদের আঘাত না করা এবং সম্ভব হলে খাবার ও পানি দেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগ নেওয়া যায়।

তবে বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ও জীবনযাপন রক্ষা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণী সুরক্ষা

বাংলাদেশে প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের বৈচিত্র্য অনেক। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে শুরু করে হরিণ, বানর, হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও সরীসৃপ আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার, বন্যপ্রাণী পাচার এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে অনেক প্রাণী ঝুঁকিতে রয়েছে।

শহরাঞ্চলেও প্রাণীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে পথকুকুর ও বিড়াল অনেক সময় খাবার, পানি ও চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পায়। কেউ কেউ আবার তাদের নির্যাতনও করেন।

প্রাণীদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল আচরণ এই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলাতে পারে।

ভালোবাসা হোক আচরণে

বিশ্ব প্রাণী দিবস শুধু একটি দিন উদযাপনের বিষয় নয়। এটি আমাদের প্রতিদিনের আচরণ নিয়ে ভাবার সুযোগ করে দেয়।

আমাদের চারপাশে থাকা প্রাণীদের প্রতি একটু সহানুভূতিশীল হওয়া, অকারণে তাদের বিরক্ত না করা, আহত প্রাণীকে সাহায্য করা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় সচেতন থাকা দিয়েই শুরু হতে পারে পরিবর্তন।

প্রাণীরা আমাদের ভাষায় কথা বলতে পারে না। কিন্তু তারাও ব্যথা পায়, ভয় পায় এবং বাঁচতে চায়। তাই তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করা আমাদের দায়িত্ব।

আজ বিশ্ব প্রাণী দিবসে সেই দায়িত্বের কথাই আরেকবার মনে রাখা যাক।