logo
Advertisement

ফ্রিজে কাঁচা মুরগির মাংস কতদিন রাখা নিরাপদ, নষ্ট হওয়ার ৩ লক্ষণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ফ্রিজে কাঁচা মুরগির মাংস কতদিন রাখা নিরাপদ, নষ্ট হওয়ার ৩ লক্ষণ
ছবি: হালাল ফাইন ফুডস

বাজার থেকে মুরগির মাংস কিনে এনে অনেকেই ফ্রিজে রেখে দেন। প্রয়োজনমতো কিছুটা রান্না করে বাকিটা পরে ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়াটা বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু কাঁচা মুরগির মাংস ফ্রিজে রাখলেই যে দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকবে, তা নয়।

সঠিক তাপমাত্রায় এবং সঠিক নিয়মে সংরক্ষণ না করলে কাঁচা মাংসে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে। আবার অনেক সময় মাংস দেখতে মোটামুটি স্বাভাবিক মনে হলেও সেটি খাওয়ার উপযোগী নাও থাকতে পারে। তাই ফ্রিজে মুরগির মাংস রাখার ক্ষেত্রে কতদিন রাখা যাবে এবং নষ্ট হয়ে গেছে কি না, তা বোঝার উপায় জানা জরুরি।

কাঁচা মুরগির মাংস ফ্রিজে কতদিন রাখা যায়?

সাধারণ রেফ্রিজারেটরে কাঁচা মুরগির মাংস ১ থেকে ২ দিন রাখা নিরাপদ। মার্কিন কৃষি বিভাগও (USDA) কাঁচা মুরগি কেনার পর এক থেকে দুই দিনের মধ্যে রান্না করার পরামর্শ দেয়। এর বেশি সময় রাখতে হলে মাংস ডিপ ফ্রিজারে রাখা ভালো।

অন্যদিকে রান্না করা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন রাখা যায়। তবে ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে থাকা জরুরি।

দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে কাঁচা মাংস ভালোভাবে প্যাক করে ডিপ ফ্রিজারে রাখতে পারেন। ফ্রিজারে প্রায় -১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলে মাংস নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

ফ্রিজে মাংস রাখার সঠিক নিয়ম

কাঁচা মুরগির মাংস সরাসরি ফ্রিজের তাকে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। মাংসের প্যাকেট থেকে তরল বের হয়ে অন্য খাবারে লাগলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তাই মাংস একটি এয়ারটাইট বক্সে বা ভালোভাবে মোড়ানো অবস্থায় রাখুন। সম্ভব হলে ফ্রিজের নিচের তাকে রাখুন। এতে মাংসের তরল অন্য খাবারের ওপর পড়ার ঝুঁকি কম থাকে।

এক্ষেত্রে আরও মনে রাখবেন যে, এমনিতেও ফ্রিজে অতিরিক্ত খাবার ঠেসে রাখা ঠিক না। ভেতরে ঠান্ডা বাতাস চলাচলের জন্য কিছুটা জায়গা রাখা প্রয়োজন।

মাংস নষ্ট হয়েছে কি না বুঝবেন ৩ লক্ষণে

রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন

কাঁচা মুরগির মাংসের রঙ কিছুটা পরিবর্তিত হলেই সেটি নষ্ট হয়ে গেছে, এমন নয়। সংরক্ষণের সময় মাংসের রঙে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে।

তবে রঙের পরিবর্তনের সঙ্গে যদি অন্য অস্বাভাবিক লক্ষণও থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে মাংসের রঙ ফিকে বা গাঢ় হয়ে যেতে পারে।

চটচটে বা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া

তাজা মাংস সাধারণত ভেজা থাকবে, কিন্তু অতিরিক্ত চটচটে বা পিচ্ছিল অনুভূত হবে না। মাংস হাতে ধরলে অস্বাভাবিকভাবে আঠালো বা পিচ্ছিল মনে হলে সেটি নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

এমন মাংস ধুয়ে বা ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ার চেষ্টা না করাই নিরাপদ। মার্কিন কৃষি বিভাগের নির্দেশনাতেও চটচটে, আঠালো বা পিচ্ছিল মাংস ব্যবহার না করার কথা বলা হয়েছে।

বাজে গন্ধ

মুরগির মাংস থেকে অস্বাভাবিক, টক বা পচা ধরনের গন্ধ বের হলে সেটি খাওয়া উচিত নয়।

বিশেষ করে গন্ধের সঙ্গে রঙের পরিবর্তন এবং চটচটে ভাব থাকলে মাংস নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। এমন অবস্থায় মাংস ফেলে দেওয়াই নিরাপদ।

ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কতক্ষণ রাখা যাবে?

কাঁচা মুরগির মাংস কেনার পর দীর্ঘ সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া নিরাপদ নয়। দুই ঘণ্টার বেশি ঘরের তাপমাত্রায় থাকলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ার কথা বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বাজার থেকে মাংস আনার পর যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রাখা উচিত।

গরম আবহাওয়ায় এই বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা দরকার। বিশেষ করে বাজার থেকে মাংস আনার পর গাড়ি বা মোটরসাইকেলে দীর্ঘ সময় রেখে দিয়ে পরে ফ্রিজে রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো।

মাংস নষ্ট হলে রান্না করে খাওয়া যাবে?

না। মাংসের গন্ধ, চটচটে ভাব বা পচনের অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে রান্না করে সেটি নিরাপদ করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

কারণ খাবার নষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর শুধু রান্না করলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই সন্দেহ থাকলে মাংস ফেলে দেওয়াই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

বরফ গলানোর সময়ও সতর্ক থাকুন

ডিপ ফ্রিজারে রাখা মুরগির মাংস রান্নার আগে সঠিকভাবে বরফমুক্ত করা জরুরি। ঘরের তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় রেখে বরফ গলানোর বদলে ফ্রিজের সাধারণ অংশে রেখে ধীরে ধীরে গলানো নিরাপদ পদ্ধতিগুলোর একটি।

মাংস গলানোর পর আবার দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে না রেখে দ্রুত রান্না করা উচিত।

মনে রাখবেন, কাঁচা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে রাখলে ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে রান্না করে ফেলা ভালো। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে ডিপ ফ্রিজ ব্যবহার করুন। মাংসের গন্ধ, রঙ ও গঠনেও নজর রাখুন।

তবে শুধু রঙ দেখে মাংস নষ্ট হয়েছে কি না সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। অস্বাভাবিক গন্ধ, চটচটে বা পিচ্ছিল ভাব এবং রঙের পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা গেলে মাংস ব্যবহার না করাই নিরাপদ।

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শুধু খাবারের অপচয়ই কমে না, খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকিও কমানো যায়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস