৫ ধরনের ব্যক্তির জন্য বেদানা খাওয়া বিপজ্জনক

বেদানা বা ডালিম পুষ্টিকর ফল হিসেবে বেশ পরিচিত। রসালো এই ফলে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। পরিমিত পরিমাণে বেদানা খাওয়া বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ। কিছু গবেষণায় বেদানার রস রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা সামান্য কমাতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সবার শরীরের জন্য একই খাবার একইভাবে উপযোগী নাও হতে পারে।
বিশেষ কিছু শারীরিক সমস্যা থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ খেলে বেদানা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার। আবার কেবল কোনো রোগ আছে বলেই বেদানা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, এমন কথাও ঠিক নয়। ব্যক্তির রোগ, ওষুধ ও রক্ত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক করা গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের রক্তচাপ খুব কম
বেদানার রস রক্তচাপ কিছুটা কমাতে পারে বলে কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাই যাদের এমনিতেই রক্তচাপ কম থাকে, তাদের বেশি পরিমাণে বেদানা বা বেদানার রস খেলে মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।
বিশেষ করে যারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খান, তারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে বেদানার রস খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। তবে সবার ক্ষেত্রেই বেদানা রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দেবে, এমন প্রমাণ নেই।
যারা নিয়মিত নির্দিষ্ট ওষুধ খান
কিছু খাবার ও ভেষজ উপাদান ওষুধের কার্যকারিতা বা শরীরে ওষুধের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বেদানা নিয়েও ওষুধের সঙ্গে সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়া নিয়ে সতর্কতা রয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত একাধিক ওষুধ খেলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথা জানানো ভালো।
তবে বেদানা খেলে সব ওষুধের সঙ্গে সমস্যা হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। কোন ওষুধ খাচ্ছেন, কত মাত্রায় খাচ্ছেন এবং বেদানা কতটা খাচ্ছেন, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের সামনে অস্ত্রোপচার রয়েছে
অস্ত্রোপচারের আগে নিয়মিত ওষুধ, ভেষজ উপাদান ও খাদ্যসম্পূরক সম্পর্কে চিকিৎসককে জানানো জরুরি। কিছু ভেষজ ও সম্পূরক অস্ত্রোপচারের সময় রক্তপাত, রক্তচাপ বা অ্যানেস্থেশিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বেদানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকির প্রমাণ সীমিত। তাই অস্ত্রোপচার সামনে থাকলে নিজে থেকে বেদানা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে সার্জন বা চিকিৎসককে বিষয়টি জানানোই নিরাপদ।
যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে
কিডনি রোগীদের জন্য বিষয়টি একটু আলাদা। বেদানায় পটাশিয়াম রয়েছে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করে দেওয়া কঠিন হতে পারে। তবে কিডনি রোগ আছে মানেই সবাইকে বেদানা বাদ দিতে হবে, এমন নয়।
কারও রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি হলে, হেমোডায়ালাইসিস চললে বা কিডনি প্রতিস্থাপন হয়ে থাকলে বেদানা খাওয়ার পরিমাণ চিকিৎসক বা কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত। কিডনি প্রতিস্থাপনের কিছু ওষুধের সঙ্গে বেদানার সম্ভাব্য পারস্পরিক ক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়।
যাদের বেদানায় অ্যালার্জি বা হজমের সমস্যা হয়
বেদানা সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি হতে পারে। খাওয়ার পর মুখ, ঠোঁট বা গলা চুলকানো, ফুসকুড়ি, ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে আর না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
এ ছাড়া বেদানায় ফাইবার রয়েছে। তাই একসঙ্গে বেশি খেলে কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই সংবেদনশীল পেট বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা অল্প পরিমাণে খেয়ে শরীরের প্রতিক্রিয়া দেখতে পারেন।
তাহলে কি বেদানা খাওয়া বন্ধ করতে হবে?
না। বেদানা এমন কোনো ফল নয়, যা সাধারণভাবে সবার জন্য ক্ষতিকর। বরং বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে বেদানা খাওয়া নিরাপদ এবং এটি পুষ্টিকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
তবে রক্তচাপ খুব কম থাকা, নিয়মিত একাধিক ওষুধ খাওয়া, অস্ত্রোপচার সামনে থাকা, কিডনির সমস্যা বা বেদানায় অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে নিজের ইচ্ছায় বেশি পরিমাণে বেদানা বা বেদানার রস খাওয়া ঠিক নয়।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার, ফল হিসেবে বেদানা খাওয়া আর ঘন বেদানার রস বা বেদানার নির্যাস গ্রহণ এক বিষয় নয়। খাবার হিসেবে পরিমিত ফল খাওয়ার সঙ্গে সম্পূরক বা ঘন নির্যাসের নিরাপত্তা ও মাত্রার পার্থক্য রয়েছে।
বেদানাকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। সুস্থ মানুষ পরিমিত পরিমাণে এই ফল খেতে পারেন। তবে কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে বা নিয়মিত ওষুধ চললে খাদ্যতালিকায় বেদানা যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে কিডনি রোগ, রক্তচাপের সমস্যা বা অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে।
সূত্র: টিভি ৯
