logo

চিনির পরিবর্তে ঈদে স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাওয়ার পরামর্শ দিলেন পুষ্টিবিদ

চিনির পরিবর্তে ঈদে স্বাস্থ্যকর বিকল্প খাওয়ার পরামর্শ দিলেন পুষ্টিবিদ

রমজানের এক মাস সিয়াম সাধনার পরে ঈদের দিন আমাদের জন্য নিয়ে আসে আনন্দ ও আপ্যায়নের বার্তা। ঈদের দিনে প্রায় প্রতিটি ঘরেই তৈরি করা হয় সেমাই, ফিরনি, পায়েসসহ নানা আইটেমের মিষ্টি খাবার। 

তবে এসব খাবারে অতিরিক্ত সাদা চিনি ব্যবহারে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে  যেসব পেশেন্ট ডায়াবেটিসে ভুগছেন, ওজনাধিক্য আছেন কিংবা হরমোনজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের-পিসিওএস, ইনসুলিন রেজিসট্যান্স, থাইরয়েডের জন্য এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ঈদের দিন মিষ্টি খাবার প্রস্তুতের সময় চিনির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প ব্যবহার করা যেতে পারে।

আর  চিনির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী ব্যবহার করা যেতে পারে তাই জানাচ্ছেন ড্রিম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান প্রিয়ানা। 

খেজুরের পেস্ট

খেজুর প্রাকৃতিকভাবে স্বাদে মিষ্টি একটি ফল।এতে রয়েছে  ভালো পরিমানে ফাইবার। একইসাথে খেজুর পটাশিয়াম, আয়রনসহ নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। খেজুর ব্লেন্ড করে পেস্ট তৈরি করে সেমাই, ফিরনি বা পায়েসে ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ার পাশাপাশি পুষ্টিমানও বৃদ্ধি পায়। বাচ্চাদের জন্যও এটি সহায়ক বিকল্প হবে। তবে ডায়াবেটিক ও কিডনী পেশেন্টদের খেজুর ব্যবহারে রোগের তীব্রতা বুঝে পুষ্টিবিদের পরামর্শে গ্রহণের পরিমাণ জেনে নেয়া উচিত।

আখের গুড় বা খেজুরের গুড়

bigStoryContent

গুড় তুলনামূলকভাবে কম প্রসেসড করা হয়। এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো কিছু পরিমাণে খনিজ উপাদান থাকে। তাই সাদা চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করলে মিষ্টি খাবার কিছুটা বেশি পুষ্টিকর হতে পারে।তবে গুড় কেনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে এতে চিনি মিক্স করা আছে কিনা বা কোনো ভেজাল উপাদান আছে কিনা।গুড় পরিমিত ব্যবহার করা উচিত কেননা এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও তুলনামূলক বেশি।

কিশমিশ, শুকনো ফল ও বাদাম 

bigStoryContent

কিশমিশ ও অন্যান্য ড্রাই ফ্রুট প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি। এতে থাকে ন্যাচারাল গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। এগুলো ছোট করে কেটে বা ব্লেন্ড করে ব্যবহার করলে খাবারে বাড়তি চিনি না দিয়েও প্রাকৃতিক মিষ্টতা আনা যায়। একই সঙ্গে পটাসিয়াম,ফাইবার,আয়রন,কিছু ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও যুক্ত হয় খাবারে।অন্যদিকে বাদামে রয়েছে ভালো পরিমানে প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট।বাদাম পরিমিত পরিমানে পেস্ট করে মিষ্টি খাবারে ব্যবহার করলে এর পুষ্টিগুন অনেকাংশে বাড়ে।বাদাম বাড়ন্ত শিশুদের জন্যও হতে পারে হেলদি আইটেম।

মধু

bigStoryContent

মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা। এতে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও উপকারী উপাদান রয়েছে।মধু আন্টিইনফ্লামেটরি হিসেবেও পরিচিত।ইমিউনিটি বুস্টিং করার জন্য মধু বেশ পরিচিত। তাই সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করে এটি চিনির একটি বিকল্প হতে পারে।

মনে রাখবেন,ঈদের খাবার উপভোগের সময় স্বাস্থ্য সচেতনতা বজায় রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ।এতে ঈদের আনন্দ যেমন থাকবে, তেমনি শারীরিক সুস্থতাও বজায় থাকবে।