ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে এই ৭ পানীয়

ওজন কমানোর কথা উঠলেই প্রথম পরামর্শ থাকে বেশি করে পানি পান করার। সত্যিই পর্যাপ্ত পানি শরীরের জন্য জরুরি এবং এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু পানিই নয়, আরও কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয়ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো পানীয় একাই ওজন কমিয়ে দিতে পারে না। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে কিছু পানীয় যুক্ত করলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করতে পারে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অল্প পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো শরীরের চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া এবং বিপাকক্রিয়াকে সামান্য বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
তবে এর প্রভাব সাধারণত সীমিত। চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করাই ভালো।
ব্ল্যাক কফি
চিনি, ক্রিম বা ফ্লেভার সিরাপ ছাড়া ব্ল্যাক কফিতে ক্যালোরি খুবই কম।
এতে থাকা ক্যাফেইন কিছু সময়ের জন্য শক্তি বাড়াতে পারে এবং শরীরচর্চার সময় কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে অনিদ্রা, অস্থিরতা বা হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।
সবজি দিয়ে তৈরি জুস
টমেটো, শসা, সেলারি বা অন্যান্য সবজি দিয়ে তৈরি ঘরোয়া জুস কম ক্যালোরি এবং পুষ্টিকর হতে পারে।
তবে ফলের জুসের মতো অতিরিক্ত চিনি যোগ করা উচিত নয়। সম্ভব হলে জুসের বদলে সম্পূর্ণ সবজি খাওয়াই বেশি উপকারী, কারণ এতে খাদ্যআঁশ অক্ষুণ্ন থাকে।
প্রোটিন শেক
যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাদের জন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ পানীয় উপকারী হতে পারে।
প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং পেশি সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। তবে বাজারের অনেক প্রোটিন শেকে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। তাই লেবেল দেখে বেছে নেওয়া জরুরি।
গ্রিন স্মুদি
পালং শাক, শসা, সামান্য ফল এবং দই বা দুধ দিয়ে তৈরি গ্রিন স্মুদি পুষ্টিকর হতে পারে।
তবে এতে অতিরিক্ত মধু, চিনি বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত উপাদান যোগ করলে ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
কম চর্বিযুক্ত দুধ (low fat milk)
লো-ফ্যাট বা স্কিমড দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকে।
পরিমিত পরিমাণে এটি খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
চিনি ছাড়া হারবাল টি
ক্যামোমাইল, পুদিনা বা আদা দিয়ে তৈরি হারবাল টি কম ক্যালোরিযুক্ত একটি পানীয়।
এটি শরীরে পানি সরবরাহে সাহায্য করে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় মিষ্টি পানীয় খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
যেসব পানীয় এড়িয়ে চলবেন
ওজন কমানোর চেষ্টা করলে কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া ফলের জুস, মিল্কশেক, অতিরিক্ত সিরাপযুক্ত কফি এবং মিষ্টি চায়ের মতো পানীয় যতটা সম্ভব কম খাওয়াই ভালো।
এসব পানীয়ে অনেক সময় অল্প পরিমাণে খেলেও প্রচুর ক্যালোরি ও চিনি শরীরে প্রবেশ করে।
শুধু পানীয় নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কোনো পানীয় একা ওজন কমাতে পারে না। দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি গ্রহণ করা।
পানি সবসময়ই শরীরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পানীয়। তবে এর পাশাপাশি গ্রিন টি, ব্ল্যাক কফি, হারবাল টি, কম চর্বিযুক্ত দুধ বা প্রোটিনসমৃদ্ধ পানীয় পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এগুলো ওজন কমানোর জাদুকরি উপায় নয়, বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: হেল্থ
.png)


