logo

সর্দি-কাশি ছাড়াও যে ৭ কারণে গলা চুলকাতে পারে

সর্দি-কাশি ছাড়াও যে ৭ কারণে গলা চুলকাতে পারে
ছবি: ট্রাস্ট কেয়ার

গলায় খুসখুস বা চুলকানি খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কখনও সামান্য অস্বস্তি হয়, আবার কখনও গলা চুলকানোর সঙ্গে কাশি, হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা গলা ব্যথাও শুরু হয়। আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলাবালি, অ্যালার্জি কিংবা সর্দি-কাশির মতো নানা কারণে এমন হতে পারে।

তবে গলা চুলকানো মানেই যে সংক্রমণ হয়েছে, এমন নয়। গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ধোঁয়া বা দূষণের সংস্পর্শ, নাকের সর্দি গলার পেছনে নামা এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সও এর কারণ হতে পারে।

গলা চুলকানোর ৭টি সাধারণ কারণ

সর্দি বা ভাইরাসের সংক্রমণ

সাধারণ সর্দি, ফ্লু ও অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণে গলা খুসখুস বা চুলকানি হতে পারে। এর সঙ্গে নাক দিয়ে পানি পড়া, হাঁচি, কাশি, শরীর ব্যথা বা জ্বরও থাকতে পারে। বেশির ভাগ ভাইরাসজনিত গলা ব্যথা বা অস্বস্তি কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়।

অ্যালার্জি

ধুলা, পরাগরেণু, ছাঁচ, পোষা প্রাণীর লোম বা ত্বকের কণা থেকে অ্যালার্জি হলে গলা চুলকাতে পারে। এ ক্ষেত্রে হাঁচি, নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ চুলকানোর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় গেলে বা কোনো বস্তু ব্যবহারের পর বারবার একই সমস্যা হলে অ্যালার্জির বিষয়টি খেয়াল করা দরকার।

গলা শুষ্ক হয়ে যাওয়া

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, শুষ্ক বাতাস কিংবা নাক বন্ধ থাকার কারণে মুখ দিয়ে বেশি সময় শ্বাস নিলে গলা শুকিয়ে যেতে পারে। তখন গলায় খুসখুস বা চুলকানোর অনুভূতি তৈরি হয়।

ধোঁয়া ও বায়ুদূষণ

সিগারেটের ধোঁয়া, ধুলা, রাসায়নিক পদার্থ এবং দূষিত বাতাস গলার ভেতরের আবরণে জ্বালা তৈরি করতে পারে। ধূমপান না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে একই ধরনের অস্বস্তি হতে পারে।

নাকের সর্দি গলার পেছনে নামা

অ্যালার্জি বা সর্দির কারণে নাকের অতিরিক্ত মিউকাস গলার পেছনে নেমে গেলে গলায় বারবার কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি, খুসখুস বা কাশি হতে পারে। একে পোস্টনেজাল ড্রিপ বলা হয়।

অ্যাসিড রিফ্লাক্স

পেটের অ্যাসিড ওপরে উঠে খাদ্যনালি ও গলায় পৌঁছালে গলায় জ্বালা, অস্বস্তি বা খুসখুস হতে পারে। এর সঙ্গে বুকজ্বালা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি বা গলা বসে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত কথা বলা

অনেকক্ষণ জোরে কথা বলা, চিৎকার করা বা গলার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লেও অস্বস্তি হতে পারে। তাই গলা চুলকানোর সঙ্গে যদি অনেকক্ষণ কথা বলার ইতিহাস থাকে, কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে।

গলা চুলকালে ঘরেই যা করতে পারেন

গলা চুলকানোর কারণ গুরুতর না হলে কিছু সাধারণ উপায়ে অস্বস্তি কমানো যায়।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন: পানি গলা আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। উষ্ণ পানি বা ক্যাফেইনমুক্ত গরম পানীয়ও আরাম দিতে পারে।

লবণ-পানি দিয়ে গার্গল করুন: এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করা যেতে পারে। গার্গলের পানি গিলে ফেলা উচিত নয়।

মধু খেতে পারেন: এক চামচ মধু বা উষ্ণ পানিতে মধু মিশিয়ে খেলে গলার অস্বস্তি কমতে পারে। তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কখনোই মধু দেওয়া যাবে না।

ধোঁয়া ও ধুলা এড়িয়ে চলুন: গলা চুলকানোর সময় ধূমপান, পরোক্ষ ধূমপান এবং অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে দূরে থাকুন।

ঘরের বাতাস আর্দ্র রাখুন: বাতাস খুব শুষ্ক হলে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে যন্ত্রটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে এতে ছাঁচ বা জীবাণু না জন্মায়।

গলাকে বিশ্রাম দিন: বেশি কথা বলা বা জোরে কথা বলার কারণে সমস্যা হলে কিছু সময় গলাকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

গলা চুলকানো বা হালকা অস্বস্তি সাধারণত বড় সমস্যা নয়। তবে উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে বা বারবার ফিরে এলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার। এক সপ্তাহের বেশি গলার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

এর পাশাপাশি জ্বর, গিলতে সমস্যা, ঘাড়ে ফোলা, বারবার গলা ব্যথা, কণ্ঠস্বর দীর্ঘদিন বসে থাকা বা রক্ত মেশানো কফের মতো উপসর্গ থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আর শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, একেবারেই গিলতে না পারা, লালা ঝরা বা দ্রুত গুরুতর হয়ে ওঠা উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

অ্যান্টিবায়োটিক নিজে থেকে খাবেন না

গলা চুলকানো বা সাধারণ গলা ব্যথার ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। বেশির ভাগ গলা ব্যথা ভাইরাসের কারণে হয়, আর ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।

তাই গলা চুলকালেই অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে আগে কারণ বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: নিউজ ১৮