logo
Advertisement

বুকে ব্যথার সঙ্গে এই ৫ লক্ষণ থাকলে দেরি না করে নিতে হবে চিকিৎসা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বুকে ব্যথার সঙ্গে এই ৫ লক্ষণ থাকলে দেরি না করে নিতে হবে  চিকিৎসা
ছবি: টিভি ৯

বুকে ব্যথা হলে অনেকেই প্রথমে গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের কথা ভাবেন। কখনো সত্যিই হজমের সমস্যার কারণে বুকে অস্বস্তি হতে পারে। আবার পেশিতে টান, উদ্বেগ বা অন্য কিছু কারণেও বুকে ব্যথা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সব বুকে ব্যথাকে সাধারণ সমস্যা ধরে নেওয়া নিরাপদ নয়।

কিছু ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাক বা অন্য গুরুতর শারীরিক সমস্যার সতর্কসংকেত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ যোগ হলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে উপসর্গ কখনো হঠাৎ তীব্রভাবে শুরু হয়, আবার কখনো তুলনামূলক হালকা অস্বস্তি দিয়ে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।

ব্যথা হাত, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ছে

বুকে চাপ, ভারী লাগা বা ব্যথার সঙ্গে যদি অস্বস্তি এক বা দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল, পিঠ কিংবা পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে বুকের অস্বস্তি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুধু বুকের ব্যথার জায়গাটি দেখে সমস্যার গুরুত্ব বোঝা সবসময় সম্ভব নয়।

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে

বুকে ব্যথার সঙ্গে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের ব্যথা ছাড়াও শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে এবং কখনো বুকের ব্যথা খুব স্পষ্ট না থাকলেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে হঠাৎ শ্বাস নিতে না পারার মতো অনুভূতি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা অল্প কাজেই প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব বা বমি হচ্ছে

বুকে অস্বস্তির সঙ্গে হঠাৎ ঠান্ডা ঘাম হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়াও হার্ট অ্যাটাকের সতর্কসংকেত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এসব উপসর্গকে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে রেখেছে।

অনেকে এমন অবস্থাকে গ্যাস বা বদহজম ভেবে অপেক্ষা করেন। কিন্তু বুকে ব্যথার সঙ্গে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বল লাগছে

বুকে ব্যথার পাশাপাশি মাথা ঘোরা, হালকা লাগা, হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়া বা অজ্ঞান হওয়ার মতো অনুভূতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া দরকার। হার্ট অ্যাটাকের সময় এসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে জ্ঞান হারানোর ঘটনা ঘটলে সেটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

বুকের ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে থাকছে বা বারবার ফিরে আসছে

হঠাৎ শুরু হওয়া বুকের চাপ বা ব্যথা কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে অপেক্ষা করা উচিত নয়। ব্যথা কিছুক্ষণ কমে গিয়ে আবার ফিরে এলেও সেটি অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি কখনো একটানা থাকতে পারে, আবার কিছুক্ষণ কমে গিয়ে পুনরায় শুরু হতে পারে।

তাই ব্যথা একটু কমে গেছে বলে বিপদ কেটে গেছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বুকে ব্যথা হলেই কি হার্টের সমস্যা?

না। বুকে ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে। অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেশিতে টান, উদ্বেগ, ফুসফুসের কিছু সমস্যা এবং বিভিন্ন হৃদ্‌রোগের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে।

তবে বাড়িতে বসে শুধু ব্যথার ধরন দেখে নিশ্চিতভাবে কারণ নির্ণয় করা কঠিন। নতুন ধরনের বুকের ব্যথা হলে বা ব্যথা বারবার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ব্যথা হলে কী করবেন?

বুকে ব্যথার সঙ্গে উপরের সতর্কসংকেতগুলোর কোনোটি থাকলে অপেক্ষা না করে স্থানীয় জরুরি চিকিৎসা সেবায় যোগাযোগ করুন। সম্ভব হলে নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার বদলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া নিরাপদ, কারণ চিকিৎসাকর্মীরা পথে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

ব্যথা সাময়িকভাবে কমে গেলেও যদি এটি নতুন বা অস্বাভাবিক ধরনের হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ কিছু গুরুতর সমস্যার উপসর্গও কখনো আসা-যাওয়া করতে পারে।

কখন একেবারেই দেরি করবেন না?

বুকে হঠাৎ চাপ বা ব্যথার সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা ব্যথা হাত, চোয়াল, ঘাড় কিংবা পিঠে ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তখন এটিকে জরুরি অবস্থা হিসেবে নিন। হার্ট অ্যাটাক সন্দেহ হলে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বুকে ব্যথার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজে থেকে কারণ ধরে না নেওয়া। গ্যাস বা অম্বল মনে হলেও যদি ব্যথার ধরন অস্বাভাবিক হয় কিংবা সঙ্গে সতর্কসংকেত থাকে, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: টিভি ৯