৫ ধরনের ব্যক্তির জন্য পেঁপে খাওয়া বিপজ্জনক

পেঁপে পুষ্টিকর ফল হিসেবে বেশ পরিচিত। এতে ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। পাকা পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে এবং নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবেও এটি রাখা যায়। তবে সবার জন্য পেঁপে একইভাবে উপকারী নয়। বিশেষ করে কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের মতো উপাদানের কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, পেঁপে খেলেই এই পাঁচ ধরনের মানুষের সমস্যা হবেই, এমন নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থায় বিশেষ করে বেশি পরিমাণে বা কাঁচা পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
গর্ভবতী নারী
গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে খাওয়ার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কাঁচা পেঁপের সাদা দুধের মতো ল্যাটেক্সে প্যাপেইনসহ কিছু উপাদান থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তবে পাকা পেঁপে নিয়ে বিষয়টি আলাদা। ওয়েব মেডের তথ্য অনুযায়ী, পাকা পেঁপে সাধারণ খাবার হিসেবে খাওয়া হয় এবং খাবারের স্বাভাবিক পরিমাণে এটি সাধারণত নিরাপদ। অন্যদিকে কাঁচা পেঁপে গর্ভাবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।
তাই গর্ভবতী হলে বিশেষ করে কাঁচা বা আধাপাকা পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি আছে
ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকলে পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। পেঁপেতে থাকা কিছু প্রোটিনের সঙ্গে ল্যাটেক্স অ্যালার্জির ক্রস-রিঅ্যাকশনের সম্ভাবনা রয়েছে।
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হালকা হলে চুলকানি, ত্বকে র্যাশ বা হাঁচি হতে পারে। আবার গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা অ্যানাফাইল্যাক্সিসের মতো জরুরি পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তাই ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি থাকার ইতিহাস থাকলে পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা আছে
পেঁপেতে ভিটামিন সি রয়েছে। শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন সি থেকে অক্সালেট তৈরি হতে পারে। আর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি পাথরের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে এর মানে এই নয় যে পেঁপে খেলেই কিডনিতে পাথর হবে। কিডনিতে পাথর তৈরির পেছনে পানি কম খাওয়া, খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস এবং পাথরের ধরনসহ একাধিক বিষয় কাজ করে।

যাদের আগে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর হয়েছে বা বারবার কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত বেশি পরিমাণে পেঁপে খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।
যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান
পেঁপে ও কিছু ওষুধের মধ্যে পারস্পরিক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ওষুধের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। ওয়েব মেডের তথ্য অনুযায়ী, পেঁপে ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে, ফলে সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে পেঁপে খাচ্ছেন বলে নিজের ইচ্ছায় রক্ত পাতলা করার ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। নিয়মিত ওয়ারফারিন বা অন্য কোনো অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ব্যবহার করলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে
মূল প্রতিবেদনে হাইপোথাইরয়েডিজম বা থাইরয়েড কম সক্রিয় থাকার ক্ষেত্রে পেঁপে নিয়ে সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে পেঁপের কিছু উপাদান থাইরয়েডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে প্রমাণ সীমিত এবং পাকা পেঁপে সাধারণ খাবারের পরিমাণে খেলে থাইরয়েডের রোগীদের সমস্যা হবেই, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। তাই হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে পেঁপে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিজে থেকে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

বিশেষ করে লেভোথাইরক্সিনসহ থাইরয়েডের ওষুধ নিয়মিত খেলে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত। ওয়েব মেডও বেশি পরিমাণে পেঁপে লেভোথাইরক্সিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পেঁপে কি সবার জন্য ক্ষতিকর?
একেবারেই নয়। সুস্থ মানুষের জন্য পাকা পেঁপে সাধারণ খাদ্য হিসেবে খাওয়া যায়। এতে ভিটামিন, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। মূল প্রতিবেদনে পেঁপের পুষ্টিগুণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সমস্যা মূলত নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত অবস্থায় অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ার ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে। তাই পেঁপেকে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই, আবার কোনো নির্দিষ্ট রোগ থাকলে নিজের মতো করে বেশি পরিমাণে খাওয়াও ঠিক নয়।
পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য মনে রাখুন
পেঁপে নিয়ে সতর্কতার আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো এটি পাকা নাকি কাঁচা। কাঁচা পেঁপেতে ল্যাটেক্স ও প্যাপেইনের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে পাকা পেঁপে সাধারণত ফল হিসেবে খাওয়া হয়। তাই কাঁচা পেঁপে নিয়ে সতর্কতার তথ্যকে সরাসরি পাকা পেঁপের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রয়োগ করা ঠিক নয়।
পেঁপে খাওয়ার পর অ্যালার্জি হলে কী করবেন?
পেঁপে খাওয়ার পর মুখ বা গলায় চুলকানি, ত্বকে র্যাশ, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। ল্যাটেক্স অ্যালার্জির গুরুতর প্রতিক্রিয়ায় অ্যানাফাইল্যাক্সিস হতে পারে।
পেঁপে পুষ্টিকর ফল হলেও সবার শরীরের জন্য একইভাবে উপযুক্ত নাও হতে পারে। গর্ভবতী নারী, ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি আছে এমন ব্যক্তি, কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকা ব্যক্তি এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহারকারীদের পেঁপে খাওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
তবে শুধু কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা আছে বলেই পেঁপে পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়। পাকা ও কাঁচা পেঁপের পার্থক্য, খাওয়ার পরিমাণ এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। তাই নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে বা কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
