ফ্রিজে দুধ রাখার সঠিক জায়গা কোনটি, জানেন কি

দুধ প্রতিদিনের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। চা, কফি, মিষ্টি কিংবা সরাসরি পান করা, নানা ভাবেই দুধ ব্যবহার করা হয়। তাই অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণ দুধ কিনে ফ্রিজে রেখে দেন। কিন্তু শুধু ফ্রিজে রাখলেই দুধ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে, এমনটা নয়।
দুধ কোথায় রাখা হচ্ছে, কতটা ঠান্ডায় রাখা হচ্ছে, পাত্রটি কীভাবে বন্ধ করা হচ্ছে এবং ফ্রিজের বাইরে কতক্ষণ থাকছে, এসব বিষয়ও দুধের সতেজতার ওপর প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।
ফ্রিজের দরজায় দুধ রাখবেন না
অনেকের অভ্যাস ফ্রিজের দরজার তাকেই দুধের বোতল বা প্যাকেট রাখার। জায়গা বাঁচানোর জন্য এটি সুবিধাজনক মনে হলেও দুধের জন্য এটি আদর্শ জায়গা নয়।
ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা ও বন্ধ করার কারণে সেখানে তাপমাত্রার ওঠানামা বেশি হয়। দুধের মতো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে এমন খাবার তুলনামূলক স্থির ও ঠান্ডা জায়গায় রাখা ভালো।
তাই সম্ভব হলে ফ্রিজের ভেতরের তাকের দিকে দুধ রাখুন। বিশেষ করে ফ্রিজের পেছনের দিকের ঠান্ডা অংশে রাখা তুলনামূলক ভালো।
ফ্রিজের তাপমাত্রা ঠিক রাখুন
দুধ ভালো রাখতে ফ্রিজ যথেষ্ট ঠান্ডা থাকা জরুরি। খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা উচিত। এতে খাবারে ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর করা যায়।
ফ্রিজে তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা না থাকলে আলাদা তাপমাত্রামাপক যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। শুধু ফ্রিজ ঠান্ডা মনে হচ্ছে কি না, তার ওপর নির্ভর না করাই ভালো।
দুধের প্যাকেট বা বোতল খোলা রাখবেন না
দুধ ব্যবহারের পর প্যাকেট বা বোতল ভালোভাবে বন্ধ করে ফ্রিজে রাখুন। খোলা অবস্থায় রাখলে দুধের গুণমান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ফ্রিজের অন্য খাবারের গন্ধও দুধে চলে আসতে পারে।
ঢাকনাযুক্ত পাত্রে দুধ রাখলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়। খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও ফ্রিজে রাখা খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ফ্রিজের বাইরে বেশি সময় রাখবেন না
দুধ কেনার পর বাড়িতে এনে যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে রাখা উচিত। একইভাবে দুধ ফ্রিজ থেকে বের করে দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া ঠিক নয়।
সাধারণভাবে দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি রাখা উচিত নয়। তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এই সময়সীমা এক ঘণ্টায় নেমে আসে।
বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি।
ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না
ফ্রিজে যত বেশি খাবার গাদাগাদি করে রাখা হবে, ঠান্ডা বাতাসের চলাচল তত বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে কিছু অংশে প্রয়োজনীয় ঠান্ডা বজায় নাও থাকতে পারে।
দুধসহ দ্রুত নষ্ট হতে পারে এমন খাবারের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন। এতে ঠান্ডা বাতাস চলাচল করতে সুবিধা হবে।
দুধের মেয়াদ দেখুন
দুধ কতদিন ভালো থাকবে, তা শুধু ফ্রিজে রাখার ওপর নির্ভর করে না। প্যাকেটের মেয়াদ, দুধের ধরন এবং প্যাকেট খোলার পর কতদিন হয়েছে, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
একটি সাধারণ নির্দেশনায় ফ্রিজে রাখা দুধ প্রায় সাত দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যেতে পারে বলে উল্লেখ আছে। তবে আপনার কেনা দুধের প্যাকেটে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশনা ও মেয়াদকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
গন্ধ বা স্বাদ দেখে সন্দেহ হলে খাবেন না
দুধ নষ্ট হলে টক গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ, দলা পাকানো বা গঠনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দুধ ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
তবে শুধু গন্ধ বা চেহারা দেখে সবসময় খাবার নিরাপদ কি না বোঝা যায় না। কিছু ক্ষতিকর জীবাণু খাবারের গন্ধ, স্বাদ বা চেহারায় পরিবর্তন না এনেও অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তাই দুধ সঠিক তাপমাত্রায় রাখা এবং নির্ধারিত সংরক্ষণ নির্দেশনা মেনে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ চলে গেলে কী করবেন
বিদ্যুৎ চলে গেলে বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ রাখলে ফ্রিজ বেশ কিছু সময় ভেতরের ঠান্ডা ধরে রাখতে পারে।
খাদ্যনিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, দরজা না খুললে একটি ফ্রিজ সাধারণত প্রায় চার ঘণ্টা খাবার নিরাপদ ঠান্ডা তাপমাত্রায় রাখতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে দুধের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খাওয়া উচিত নয়।
দুধ বেশি দিন ভালো রাখার সহজ নিয়ম
দুধ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মনে রাখলেই ভুল অনেকটা এড়ানো যায়।
- কেনার পর দ্রুত ফ্রিজে রাখুন
- ফ্রিজের দরজায় না রেখে ভেতরের তাকে রাখুন
- ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখুন
- ব্যবহারের পর প্যাকেট বা বোতল ভালোভাবে বন্ধ করুন
- দুধ দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখবেন না
- ফ্রিজ অতিরিক্ত খাবারে গাদাগাদি করে ভরবেন না
- প্যাকেটের মেয়াদ ও সংরক্ষণ নির্দেশনা মেনে চলুন
- দুধের গন্ধ, স্বাদ বা গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে ব্যবহার করবেন না
দুধ দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য কোনো বিশেষ কৌশলের চেয়ে সঠিক তাপমাত্রায় দ্রুত ফ্রিজে রাখা এবং ধারাবাহিকভাবে ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রিজের দরজায় দুধ রাখা, দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা কিংবা প্যাকেট খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করার মতো অভ্যাস দুধের মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই দুধ কেনার পর দ্রুত ফ্রিজে রাখুন, ভেতরের তাকে সংরক্ষণ করুন এবং ব্যবহারের পর পাত্র ভালোভাবে বন্ধ করে দিন। এতে দুধের সতেজতা বজায় রাখা এবং খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমানো সহজ হবে।
সূত্র: নিউজ১৮ বাংলা
