logo

ফ্রান্স জ্বলছে ভুল অভিবাসন নীতির কারণে: ট্রাম্প

হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস
ফ্রান্স জ্বলছে ভুল অভিবাসন নীতির কারণে: ট্রাম্প
ফ্রান্স অভিবাসন নীতির কারণে জ্বলছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

ফ্রান্সের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যেসব মানুষ ফ্রান্সকে ঘৃণা করে, তাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়ায় দেশটি এখন ‘জ্বলছে’। একই সঙ্গে দেশটিতে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে শিক্ষা খাতের সংকটের সম্পর্ক রয়েছে, এমন বক্তব্যও নাকচ করেছেন তিনি।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের পেরিতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সে পুলিশ রয়েছে, কিন্তু তাদের কাজ করতে দেওয়া হয় না। সীমান্ত খুলে দিয়ে যারা ফ্রান্সকে ঘৃণা করে, তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় দেশটি এখন জ্বলছে। তারা ফ্রান্সকে ঘৃণা করে, ফ্রান্সের জনগণকেও ঘৃণা করে।’

ফ্রান্সের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির পক্ষে যুক্তি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যারা কোনো দেশকে ঘৃণা করে, তাদের সেই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত নয়।

এ সময় জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফের সমালোচনা করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অসফ যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী নিয়ে আসতে চান, যারা মার্কিন সভ্যতাকে লুটপাট ও ধ্বংসের লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরেছেন, এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

গত মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) ও ইনফোসিসসহ আটটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রিন কার্ড আবেদনপ্রক্রিয়া স্থগিত করে প্রশাসন। এ ছাড়া জালিয়াতির অভিযোগ এবং মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে নয়টি অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়।

ফ্রান্সে কেন বিক্ষোভ?

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা খাতে অর্থায়নের ঘাটতিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব কর্মসূচির কিছু অংশে সহিংসতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে বিক্ষোভগুলো তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকলেও শনিবার গভীর রাতে প্যারিসে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্যারিসের বাইরেও লিয়ঁ, লিল, মার্সেই, মন্টপেলিয়ে, নঁত ও তুলুজের মতো বড় শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এএনআইয়ের বরাতে ফ্রান্স ২৪ জানিয়েছে, ফরাসি সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। অন্যদিকে, আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।

ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা খাতে অর্থায়নের সংকটের মতো বিষয়গুলো উঠে এলেও ট্রাম্প পরিস্থিতিটিকে অভিবাসন নীতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছেন। তার এই বক্তব্য ফ্রান্সের চলমান সংকট নিয়ে অভিবাসনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।