ভারতে ‘অপরাধী’ মুখ্যমন্ত্রীদের শীর্ষে রেড্ডি-শুভেন্দু অধিকারী

দ্য প্রিন্ট
ভারতে ‘অপরাধী’ মুখ্যমন্ত্রীদের শীর্ষে রেড্ডি-শুভেন্দু অধিকারী
ফৌজদারি মামলার আসামি এ আর রেড্ডি, শুভেন্দু অধিকারী, ডিকে শিবকুমার ও বিজয় থালাপতি (বাম থেকে)। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

ভারতের লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) ও রাজ্য বিধানসভার সদস্যদের (এমএলএ) বিরুদ্ধে ৪ হাজারের বেশি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। লোকসভার ৫৪৩ জন সদস্যের মধ্যে ২৫১ জন এবং রাজ্যসভার ২৩৩ জন সদস্যের মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে এসব মামলা রয়েছে।

Advertisement

সোমবার (১৭ আগস্ট) অ্যামিকাস কিউরি প্রবীণ আইনজীবী বিজয় হানসারিয়ার দাখিল করা ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, শীর্ষ আদালত ও হাইকোর্টগুলোর নজরদারি সত্ত্বেও ২০১৮ সাল থেকে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় একই রয়ে গেছে।

বর্তমানে সাবেক ও বর্তমান এমপিদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার মোট সংখ্যা ৪ হাজার ১৯২টি। এসব মামলার মধ্যে কেবল ২০২৫ সালেই নতুন করে ১ হাজার ৫০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। আর নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ২৪৩ মামলা।

তথ্যানুসারে, লোকসভার ২৫১ জন অভিযুক্ত সদস্যের মধ্যে ১৭০ জনের বিরুদ্ধেই খুন, অপহরণ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এসব ফৌজদারি অপরাধের ন্যূনতম শাস্তি পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ড। রাজ্যসভার ক্ষেত্রেও ৭৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ৪০ জন গুরুতর মামলার মুখোমুখি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ২৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৪টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভান্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ৮৯টি মামলা রয়েছে। এরপরই ২৯টি মামলা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দাখিল করা শুভেন্দু অধিকারীর হলফনামাতেও ২৯টি ফৌজদারি মামলা থাকার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। মাইনেটার তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলার কোনোটিতেই তার বিরুদ্ধে এখনও অভিযোগ গঠন হয়নি।

তালিকায় এরপর রয়েছেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, দুজনের বিরুদ্ধেই ১৯টি করে মামলা রয়েছে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৮টি মামলা। এরপর ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন ও মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবিশের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি মামলা।

প্রথমবারের মতো তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়া টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়) এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি করে মামলা। একটি করে মামলা রয়েছে সিকিমের প্রেম সিং তামাং, পাঞ্জাবের ভগবন্ত মান, ওড়িশ্যার মোহনচরণ মাঝি এবং রাজস্থানের ভজনলাল শর্মার বিরুদ্ধে।

এদিকে রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে কেরালা শীর্ষে রয়েছে। রাজ্যটির ২০ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ১৯ জনই (৯৫ শতাংশ) ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন। এ ছাড়া তেলেঙ্গানার ৮২ শতাংশ এবং ওড়িশ্যার ৭৬ শতাংশ সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৫৪৩ জন লোকসভা সদস্যের মধ্যে ২৫১ জন এবং ২৩৩ জন রাজ্যসভা সদস্যের মধ্যে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ৪২ জন সাংসদের মধ্যে ১৬ জনের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।

শুধু সংসদ সদস্য বা মুখ্যমন্ত্রী নন, বিধায়কদের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক ফৌজদারি মামলা। এ ক্ষেত্রে রাজ্যগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটির ১৭০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যা মোট বিধায়কের প্রায় ৫৮ শতাংশ। এরপর রয়েছে কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশ্যা।

সুপ্রিম কোর্টে চলমান এই মামলায় মূলত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে বিজয় হংসরিয়াও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছেন।

ভারতে ‘অপরাধী’ মুখ্যমন্ত্রীদের শীর্ষে রেড্ডি-শুভেন্দু অধিকারী