logo

মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে ৭ শতাধিক চিঠি, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে ৭ শতাধিক চিঠি, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার
এফবিআই জানিয়েছে যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি বিশ্বাস করেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। ছবি: এপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটির শত শত সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে সাদা গুঁড়াসহ ৭০০টির বেশি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম রবিন প্যাট্রিক মার্টিন। ৬৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ওকলাহোমা সিটির বাসিন্দা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জেলা আদালতে হাজির করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

মার্টিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং ডাকযোগে হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মার্টিন শত শত অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তার কাছে সাদা গুঁড়াসহ ৭০০টির বেশি চিঠি পাঠিয়েছেন। এসব চিঠির প্রাপকদের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য এবং নির্বাচনী জরিপকারীরাও রয়েছেন।

প্রাথমিক পরীক্ষায় চিঠিগুলোর সঙ্গে পাঠানো সাদা গুঁড়া ক্ষতিকর নয় বলে জানা গেছে। এতে মূলত ইস্ট বা ময়দার উপাদান পাওয়া গেছে। তবে সব চিঠির পরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ও রাষ্ট্রদ্রোহের হুমকি

এফবিআইয়ের এজেন্ট ডেভিড কোলের আদালতে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, চিঠিগুলোতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল।

কোল জানান, চিঠির লেখক ২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচন নিয়ে নিজের আপত্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ওই নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও একই ধরনের অনিয়ম ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চিঠিগুলোতে প্রাপকদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার কিংবা আরও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিঠিতে অতিবেগুনি রশ্মির আলোয় দৃশ্যমান বিশেষ কালিতে লেখা ছিল, ‘ইতিহাসের সঠিক পাশে থাকুন! আপনার জীবন এর ওপর নির্ভর করতে পারে।’

রিপাবলিকান নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের পরিবর্তে তিনিই জয়ী হয়েছিলেন। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের এসব ভিত্তিহীন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর সমর্থকেরা ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালান। নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করাই ছিল ওই হামলার উদ্দেশ্য।

২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও ট্রাম্প তাঁর বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী জালিয়াতির আশঙ্কা নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী জালিয়াতির ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

২০২৪ সাল থেকে তদন্ত শুরু

মার্টিনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। সে সময় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তারা ডাকযোগে সাদা অজ্ঞাত পদার্থযুক্ত চিঠি পাওয়ার অভিযোগ জানান।

চিঠিগুলোর প্রেরকের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল মেরিল্যান্ডের তাকোমা পার্ক এলাকার কাল্পনিক একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেইটর এলিমিনেশন আর্মি’।

এফবিআই জানিয়েছে, ওকলাহোমা সিটি, টেক্সাসের ডালাস এবং সান আন্তোনিওর বিভিন্ন ডাকঘরে মার্টিনের যাতায়াতের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। এসব ডাকঘর থেকেই তিনি চিঠিগুলো পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের নামে পাঠানো একটি চিঠিতে মার্টিনের আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

তদন্তে যুক্ত ছিল ডেমোক্র্যাটপন্থী সংগঠন

এই ঘটনায় তদন্তে অংশ নিয়েছিল ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ) নামের একটি রাজনৈতিক সংগঠনও।

এফবিআইয়ের ধারণা, সন্দেহভাজন মার্টিন সংগঠনটির ই-মেইল বা মেইলিং তালিকায় বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ওই বার্তাগুলোর ভাষার সঙ্গে ডাকযোগে পাঠানো চিঠিগুলোর মিল পাওয়া গেছে।

বার্তাগুলোতে ডিএসএর সদস্যদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পাশাপাশি মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও তোলা হয়।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি কর্মকর্তা ও নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে এ ধরনের হুমকিমূলক চিঠি পাঠানোর ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এফবিআই।