হরমুজ খুলতে ইরানের দেওয়া নতুন ৬ শর্ত কী কী

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌচলাচল চালুর বিষয়ে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করেছে ইরান। শর্তগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবিগুলো পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতির এই প্রাণভোমরা উন্মুক্ত করা হবে না। ফলে নৌপথটি খোলার বিষয়ে চুক্তি সম্পাদনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর জানান, কৌশলগত এই জলপথটি পুনরায় খোলার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই তাদের আচরণ সংশোধন করতে হবে।
তিনি তেহরানের পক্ষ থেকে ছয়টি নির্দিষ্ট শর্ত তালিকাভুক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ করা, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, অবরুদ্ধকরণ নীতিতে জড়িত মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করা, সাম্প্রতিক সংঘাতে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিশ্বব্যাপী আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা।
দেশজুড়ে আয়োজিত ছয় দিনের গণসমাবেশের কথা উল্লেখ করে জোলঘাদর জোর দিয়ে বলেন, এই দাবিগুলো ইরানের সাধারণ জনগণের স্পন্দিত ইচ্ছারই প্রতিফলন। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ যুদ্ধ কিংবা কূটনীতি, যে কোনো পথেই হাঁটুক না কেন, এই ছয় দফা দাবি থেকে একচুলও পিছু হটবে না।
বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আলোচনা গভীর অচলাবস্থায় থাকায় তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের গুরুত্ব পাচ্ছে। গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে প্রণালিতে অব্যাহত হামলা চলছে। মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে জুন মাসের সমঝোতায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ওমানের সঙ্গে প্রণালি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। তবে তিনি আরও বলেন, হরমুজ পুনরায় খোলা ‘অন্য শর্ত ও জুন চুক্তি লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণের ওপর নির্ভরশীল’।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যমান শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ চলাচল শুরু করা। তবে পরবর্তীতে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ও শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলায় এবং নতুন দাবি উত্থাপন করায় পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, এএফপি

