logo

অর্থসংকটে গাজায় এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য সহায়তা কমাল জাতিসংঘ

অর্থসংকটে গাজায় এক-তৃতীয়াংশ খাদ্য সহায়তা কমাল জাতিসংঘ
অর্থায়নের ঘাটতির কারণে গাজা উপত্যকায় খাদ্য সহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

অর্থায়নের ঘাটতির কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় খাদ্য সহায়তা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমাতে বাধ্য হয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। শীত ঘনিয়ে আসার মধ্যে সংস্থাটির এ সিদ্ধান্তে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ জরুরি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডব্লিউএফপি জানায়, গত মাসে গাজায় ১৬ লাখ ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হলেও বর্তমানে এ সংখ্যা কমে ১১ লাখে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে খাদ্য রেশনের পরিমাণও অর্ধেক করা হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারগুলোকে এখন থেকে দুটি খাদ্য প্যাকেটের পরিবর্তে একটি দেওয়া হবে। পাশাপাশি গমের আটার পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কমেছে রান্না করা খাবার বিতরণ

অর্থের অভাবে গাজায় প্রতিদিন রান্না করা খাবার বিতরণের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ডব্লিউএফপি। আগে প্রতিদিন আড়াই লাখ মানুষকে রান্না করা খাবার দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হচ্ছে দেড় লাখ মানুষকে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছাকাছি এলাকাসহ দুর্গম অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে এখন প্রতিদিনের পরিবর্তে এক দিন পরপর খাবার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ৭৫ হাজার পরিবারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তার পরিমাণও কমিয়েছে সংস্থাটি।

গাজার ৬৭ শতাংশ মানুষ খাদ্যসংকটে

ডব্লিউএফপির হিসাব অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১৪ লাখ মানুষ; অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার ৬৭ শতাংশ গুরুতর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা বা তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন।

এদের মধ্যে প্রায় দুই লাখ মানুষ জরুরি পর্যায়ের খাদ্যসংকটে রয়েছেন। ক্ষুধায় মৃত্যু ঠেকাতে তাদের অবিলম্বে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে শিশুদের অপুষ্টি ও খাদ্যের বৈচিত্র্যের অভাব। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে মাত্র একজন পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার পায়।

অন্যদিকে, গাজায় বেকারত্বের হার ৮০ শতাংশের বেশি। ফলে বহু পরিবারের পক্ষে পুষ্টিকর খাবার কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

যুদ্ধবিরতির পর অগ্রগতি এখনো নাজুক

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজায় খাদ্যনিরাপত্তার পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। তবে এই অগ্রগতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। মানবিক সহায়তা আরও কমে গেলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

শুধু গাজা নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরেও অর্থসংকটের কারণে খাদ্য সহায়তা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। সেখানে আগে চার লাখ মানুষকে সহায়তা দেওয়া হলেও বর্তমানে তা কমে দুই লাখে দাঁড়িয়েছে।

ছয় মাসে জরুরি প্রয়োজন ৪৫ কোটি ডলার

গাজা ও পশ্চিম তীরে জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখতে আগামী ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত, ৪৫ কোটি ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে যুদ্ধ ও দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শীতের আগে খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় গাজার বাস্তুচ্যুত ও দরিদ্র পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।