
আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তার প্রশংসা করেন ট্রাম্প।
একই সঙ্গে তিনি নেতানিয়াহুকে তার ‘পূর্ণ ও চূড়ান্ত সমর্থন’ জানান। ট্রাম্প লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু আপনাদের কখনো হতাশ করবেন না!’
ইসরায়েলের নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে ট্রাম্পের এই সমর্থনের ঘোষণা এল। এর আগে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা ছিল।
চলতি মাসের শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর কর্মদক্ষতা নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তাকে সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। বরং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর চাপের মুখে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঘুরিয়ে দেন নিজের জনপ্রিয়তা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার দিকে।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে দুই নেতা ছয়বারের বেশি বৈঠক করেছেন। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতের বিষয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। গত জুন মাসে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে গিয়ে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘একেবারে পাগল’ বলেছিলেন বলে স্বীকার করেন ট্রাম্প।
জানা গেছে, ইরানের সঙ্গে এপ্রিলে হওয়া স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার স্পষ্ট প্রচেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে লেবাননে আর কোনো পদক্ষেপ না নিতে অনুরোধ করেছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুই নেতা যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন। তবে এই সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ সমর্থন হারিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি আগামী ৩ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, দলটি মার্কিন কংগ্রেসের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানাতে ট্রাম্পের আগের অনীহার পেছনে একটি জনধারণা কাজ করে থাকতে পারে। সেই ধারণা হলো, ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়াতে প্ররোচিত করেছে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার কট্টর ডানপন্থি জোটও অক্টোবরের নির্বাচনে বিরোধী জোটের কাছে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বিরোধী জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকোট।
সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নানা খবর প্রকাশিত হলেও রোববার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি তার সমর্থন নিয়ে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এটা সবসময়ই করতে চেয়েছিলাম। আমি শুধু খুব তাড়াতাড়ি এটা করতে চাইনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের এমন একজন ব্যক্তি থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যার ওপর তারা নির্ভর করতে পারে।’
নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কোনো ইসরায়েলি নেতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন কি না, অ্যাক্সিওসের এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ট্রাম্প। তিনি জবাব দেন, ‘হতেও পারি, নাও পারি। কে ঝুঁকি নিতে চায়?’
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষেও যুক্তি দেন ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আক্রমণ করবে, তা ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।
ট্রাম্প লেখেন, এই যুদ্ধ ইরানকে ইতিমধ্যেই ‘সামরিক ও আর্থিকভাবে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা দ্রুত তাদের পথ পরিবর্তন না করলে আমরা শিগগিরই কাজটি শেষ করে দেব।’
তিনি আরও লেখেন, ‘ইসরায়েলের ভুল নেতা থাকলে, যিনি বিবি ছাড়া অন্য কেউ হবেন, তাহলে আমেরিকাকে এই কাজ নিজেদেরই করতে হবে। আর আমি তা করতে আগ্রহী নই।’
ইসরায়েলের ভেতর থেকেও তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্পের ভাষায়, ‘প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখেও, এমনকি খোদ ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা বিরোধিতার মধ্যেও বিবি নেতানিয়াহু শক্তিশালী, সাহসী ও মেধাবী ছিলেন।’
ট্রাম্পের পোস্টের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমার বন্ধু, আপনার এই অসাধারণ সমর্থনে আমি অত্যন্ত সম্মানিত ও অভিভূত। এ জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হোয়াইট হাউসে ইসরায়েল এর আগে কখনও এত বড় বন্ধু পায়নি। এ কথা বললে কমই বলা হবে।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি মার্কিন জনগণকে বলতে চাই, আপনারা যদি আজকের গ্যাসের দাম নিয়ে চিন্তিত হন, তবে ভেবে দেখুন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করলে কী হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমি কখনোই তা হতে দেব না। যখন ওই শাসনের হুমকি দূর হয়ে যাবে, তখন গ্যাসের দাম কমে যাবে, এবং তা ব্যাপকভাবেই কমবে। তবে সেটা কেবল ট্রাম্পের আমলেই ঘটবে। যারা এই স্বৈরশাসকদের সঙ্গে আপস ও তোষণ করতে চায়, তাদের আমলে তা ঘটবে না।’

