এবার কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও মৃত্যুদণ্ডের সাজা নিয়ে অস্পষ্টতার অভিযোগও উঠেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ ও সেগুলো মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে ওই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ফেসবুকে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করার পর সেগুলো মুছে ফেলতে বারবার অনুরোধ করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। কিন্তু বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করায় তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ছুরি নিয়ে তাদের কর্মস্থলের বাইরে ওত পেতে থাকেন। তার বন্ধু ওই স্থানের ভেতরে রয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সেখানে অপেক্ষা করেন।
এরপর তার বন্ধু বাইরে আসতেই তার ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত ব্যক্তি। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বারবার ছুরিকাঘাত করেন তিনি। এতে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান অভিযুক্তের বন্ধু। আদালতে শুনানির সময় তিনি অপরাধ স্বীকারও করেন।
তিনি আদালতকে জানান, বিরোধ শুরুর আগে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একবার বাড়িতে আসার সময় তার বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর ছবি তুলেছিল এবং পরবর্তীতে সেগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করে দেয়।
অভিযুক্তের দাবি, ছবিগুলো প্রকাশের পর তার স্ত্রীর বিষয়ে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করলে তিনি বন্ধুকে সেগুলো মুছে ফেলতে বলেন। কিন্তু বন্ধু তা করতে অস্বীকৃতি জানান, বরং আরও ছবি প্রকাশ করেন। এতে তার ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ আরও বেড়ে যায়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতকে বলেন, এই বিরোধের জেরেই তিনি প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে হত্যার পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করেন। এরই প্রেক্ষিতে তাকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।


