
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিন ঘণ্টার বৈঠক ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেই আরেক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দূত স্টিভ উইটকফ ও তার জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেন। উইটকফও সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকটি ‘খুব ভালো’ হয়েছে। তবে আলোচনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
পরবর্তী বৈঠক কোথায় হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো তথ্য দেননি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।
ইরানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে প্রকাশ না করলেও ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘সম্ভাবনার বিশাল সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস’—এমন এক সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ইরান এমন একটি চুক্তিতে যেতে পারে, যার মাধ্যমে দেশটি পুনর্গঠন করে আগের চেয়েও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে দ্রুত ধ্বংস করতে পারে—এমন হুমকিও দেন তিনি।
আলোচনায় শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা?
ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যের পরও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠককে ঘিরে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আল জাজিরার প্রধান মার্কিন সংবাদদাতা অ্যালান ফিশার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের জাতিসংঘের ভাষণ এবং একই সময়ে ইরানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্যে একটি ‘অদ্ভুত বৈপরীত্য’ দেখা গেছে। তবে উভয় পক্ষ কোনো ধরনের শান্তিচুক্তির দিকে এগোতে পারে—এমন সম্ভাবনার আভাসও পাওয়া যাচ্ছে।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে। তার দাবি, ইরান নির্বাচনে তার রিপাবলিকান পার্টি ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে কেমন ফল করে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে ট্রাম্প বলেন, ইরান ইস্যুতে মার্কিন নির্বাচনের ফল তার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
