গাজায় সর্বশেষ ভবনটিও ধ্বংসের আহ্বান ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সারের

ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বর্বরতায় আজ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। সাম্প্রতিক গুগল ম্যাপসের স্যাটেলাইট চিত্রে গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ এবং ২৩ লাখ বাসিন্দার চরম মানবিক সংকটের দৃশ্য উঠে এসেছে।
ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে গাজার একটি দাঁড়িয়ে থাকা ভবনকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক ভিডিও প্রকাশ করে তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক তথাকথিত ভারতীয় ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হরমন সিং কাপুর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে হরমন কাপুর ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে প্রশ্ন তোলেন, ‘গাজার ওই আলোচিত ভবনটি এখনো কেন দাঁড়িয়ে আছে?’ ওই ভবনটি গাজার আল-কাদিসিয়া গার্লস স্কুলের। আইডিএফ বর্তমানে ভবনটিকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ভিডিওতে তিনি সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সামরিক বাহিনীকে (আইডিএফ) ট্যাগ করে ভবনটি দ্রুত নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উসকানি দেন। ভিডিওটি সামনে আসতেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনদের হাজার হাজার সমালোচনামূলক মন্তব্য ও ক্ষোভ উপচে পড়ে।
হরমন কাপুরের এই বিতর্কিত পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরই মানবাধিকারকর্মী, বিশ্লেষক ও সাধারণ ব্যবহারকারীরা একযোগে প্রতিবাদে মুখর হন। তারা সরাসরি অভিযোগ করেন, গাজায় চলমান সহিংসতা প্রচার এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে প্রকাশ্যে উসকানি দিচ্ছেন এই ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার।
সমালোচকেরা তার আসল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। একাধিক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, সম্প্রতি চাকরি ও কর্মসংস্থান পরিবর্তনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোযোগ আকর্ষণ এবং অ্যাকাউন্টের এনগেজমেন্ট বাড়াতেই নিরীহ মানুষের এই মানবিক বিপর্যয়কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি।
নেটিজেনরা এই উসকানিকে কাপুরুষোচিত ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অবরুদ্ধ গাজার নিষ্পাপ মানুষের ওপর এমন নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস করা চরম মানসিক বিকৃতির পরিচয়। ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা মন্তব্যের ঘরে সরাসরি প্রশ্ন তুলে লেখেন, হরমন কাপুরের নিজের পরিবার যদি আজ এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতো, তবে তার প্রতিক্রিয়া কী হতো?
পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথে অবস্থিত ‘রংরেজ রেস্তোরাঁ’র মালিক হরমন সিং কাপুর এর আগেও একাধিকবার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বিক্ষোভ ও অনলাইন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
এর আগে নিজের রেস্তোরাঁর বাইরে ‘আমরা গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে হালাল বিক্রি করি না’-লেখা নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিলেন তিনি। সে সময় স্থানীয় মুসলিম তরুণদের প্রতিবাদ ও মুখোমুখি হওয়ার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা ছড়িয়ে দিতেন এবং তা থেকে সস্তা কভারেজ পাওয়ার চেষ্টা করতেন।
Message for @IDF and @netanyahu pic.twitter.com/ihZNG9c7fc
— Harman Singh Kapoor (@kingkapoor72) September 28, 2026

