logo

সমুদ্রে নামবে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি

তুর্কি টুডে
সমুদ্রে নামবে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি
তুরস্কের বিমানবাহী রণতরী। ছবি: ইউটিউব থেকে নেওয়া স্ক্রিনশট

তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত বিমানবাহী রণতরি ‘মুগেম’ আগামী বছর সমুদ্রে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার অ্যাডমিরাল এরজুমেন্ট তাতলিওগ্লু জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রণতরীটি প্রথমবারের মতো সমুদ্রে নামানো হবে।

Advertisement

রোববার (২৩ আগস্ট) তুরস্কের কোকায়েলি প্রদেশের গলচুক নৌঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত ‘টেকনোফেস্ট ব্লু হোমল্যান্ড’ অনুষ্ঠানে সিএনএন তুর্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।

তাতলিওগ্লু বলেন, বিমানবাহী রণতরিটির নির্মাণকাজ ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। এটি শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হবে না; একই প্ল্যাটফর্ম থেকে মানববিহীন আকাশযান, নৌযান ও পানির নিচে চলাচলকারী মানববিহীন যান পরিচালনার সক্ষমতাও থাকবে।

তার দাবি, এমন সমন্বিত সক্ষমতাসম্পন্ন বিমানবাহী রণতরি পরিচালনা করা বিশ্বের প্রথম দেশ হবে তুরস্ক।

তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান জানান, মুগেমে ৫২টি ‘কিজিলেলমা’ মানববিহীন যুদ্ধবিমান রাখার সক্ষমতা থাকবে। জাহাজটি সমুদ্রে নামার পর এর সঙ্গে কিজিলেলমা ও অন্যান্য ব্যবস্থার সমন্বয় করে পরিচালনামূলক প্রস্তুতি শুরু হবে।

তুরস্ক বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন সামরিক যান তৈরিতে জোর দিচ্ছে। দেশটির নৌবাহিনীর কাছে পাঁচ ধরনের মানববিহীন পৃষ্ঠযান, দুই ধরনের আত্মঘাতী মানববিহীন নৌযান এবং তিন ধরনের মানববিহীন ডুবোযান রয়েছে বলে জানান তাতলিওগ্লু।

তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচিরও মুগেম প্রকল্প নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ জাতীয় বিমানবাহী রণতরি সমুদ্রে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কাচিরের ভাষায়, তুরস্ক এখন শুধু উপকূলীয় জলসীমা পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; দেশটির নৌ সক্ষমতার লক্ষ্য এখন আন্তমহাদেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছানো।

তিনি তুরস্কের নৌবাহিনীর আরও কয়েকটি দেশীয় প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে টিএফ-২০০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ডেস্ট্রয়ার, টিসিজি আনাদোলু, আদা শ্রেণির করভেট, টিসিজি ইস্তাম্বুল ফ্রিগেট এবং রেইস শ্রেণির সাবমেরিন।

তুরস্কের তৈরি আত্মাকা জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, আকিয়া ভারী টর্পেডো এবং মালামান স্মার্ট নৌমাইনও দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।

আগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মুগেমের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ২৮৫ মিটার, সর্বোচ্চ প্রস্থ ৭২ মিটার ও ড্রাফট ১০ দশমিক ১ মিটার। এর ওজন প্রায় ৬০ হাজার টন হতে পারে।

জাহাজটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৬ নটের বেশি এবং ক্রুজিং গতি ১৪ নট। ১৪ নট গতিতে এটি প্রায় ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত চলতে পারবে। এতে সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের থাকার ব্যবস্থা থাকবে।

মুগেমে চার ধরনের দেশীয় আকাশযান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে— হুরজেটের নৌ সংস্করণ, কিজিলেলমা মানববিহীন যুদ্ধবিমান, আনকা-৩ উড়ন্ত ডানা নকশার মানববিহীন যুদ্ধবিমান ও টিবি-৩ মানববিহীন যুদ্ধবিমান।

রণতরিটিতে স্বল্প দূরত্বে উড্ডয়ন ও অবতরণ ব্যবস্থার (এসটিওবিএআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর সামনের দিকে ১২ ডিগ্রি কোণে একটি ‘স্কি-জাম্প’ র‍্যাম্প থাকবে, যা বিমান উড্ডয়নে সহায়তা করবে।

এটি তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জেরাল্ড আর. ফোর্ড শ্রেণির বিমানবাহী রণতরির, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩৭ মিটার এবং ওজন প্রায় ১ লাখ টন। যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ শ্রেণির রণতরির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯৪ মিটার ও ওজন প্রায় ৮০ হাজার টন। ফ্রান্সের শার্ল দ্য গল রণতরির দৈর্ঘ্য ২৬১ মিটার এবং ওজন প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ টন।

তবে মুগেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হবে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানববিহীন আকাশযান ও নৌযান পরিচালনার সক্ষমতা। এর মাধ্যমে নৌযুদ্ধে ড্রোননির্ভর সক্ষমতার ক্ষেত্রে নতুন একটি মডেল তৈরি করতে চায় তুরস্ক।

সমুদ্রে নামবে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি