logo

বাংলাদেশের আকাশে আজ দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি, কীভাবে দেখবেন

এপি
এপি
বাংলাদেশের আকাশে আজ দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি, কীভাবে দেখবেন
উল্কাবৃষ্টি। ছবি: বিবিসি

উল্কাপাতকে বলা হয় মহাজাগতিক বিস্ময়। রাতের আকাশে আজ দেখা যেতে পারে অসংখ্য উল্কার ঝলকানি। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করার ফলে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। রাতের আকাশে উল্কার ছুটে চলার এই দৃশ্য বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি করে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশ থেকেও দেখা যেতে পারে এই মহাজাগতিক দৃশ্য।

মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পেস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আকাশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। তবে চাঁদের উজ্জ্বল আলো ও কৃত্রিম আলোর কারণে ক্ষীণ উল্কাগুলো দেখা কঠিন হতে পারে।

মহাজাগতিক এই উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার আকাশ, অন্ধকার পরিবেশ ও কিছুটা ধৈর্য থাকলেই খালি চোখে উল্কার ছুটে চলা উপভোগ করা সম্ভব।

আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির মতে, বুধবার মধ্যরাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত আদর্শ পরিস্থিতিতে প্রতি ঘণ্টায় ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে। উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগে ও পরেও উল্কা দেখা যায়। মধ্যরাতের পর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধ থেকেই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, কালপুরুষ নক্ষত্রপুঞ্জের নামানুসারে এই উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হলেও রাতের আকাশের বিভিন্ন অংশেই উল্কাগুলো দেখা যায়। ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি বিশেষভাবে উজ্জ্বল ও দ্রুতগতির হতে পারে। এ সময় সৃষ্ট উজ্জ্বল আলোর রেখা কয়েক সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

উল্কাবৃষ্টি কী?

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় পৃথিবী বছরে বেশ কয়েকবার ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং কখনও কখনও গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ। এই ধূমকেতু প্রায় ৭৫ বছর পরপর পৃথিবীর কাছাকাছি আসে।

ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ক্ষুদ্র কণাগুলো দ্রুতগতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের কারণে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। এভাবেই সৃষ্টি হয় উল্কার আলোর ঝলকানি। কখনও কখনও উল্কার চারপাশের বাতাসও ক্ষণিকের জন্য জ্বলে ওঠে। পেছনে তৈরি হয় আগুনের মতো উজ্জ্বল আলোর রেখা, যা রাতের আকাশে উল্কার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবছর উল্কাবৃষ্টি দেখতে বিশেষ কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। তবে শহরের আলো ও অন্যান্য আলোকদূষণ থেকে দূরে কোনো অন্ধকার জায়গা বেছে নিলে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বাড়ে।

উল্কাবৃষ্টি কীভাবে দেখবেন

উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে ভালো সময় সাধারণত মধ্যরাতের পর থেকে ভোরের আগপর্যন্ত। এ সময় আকাশের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে উল্কা দেখার সুযোগ বেশি থাকে।

উজ্জ্বল চাঁদ ও ভূমিতে থাকা কৃত্রিম আলোর আভা উল্কা দেখার ক্ষেত্রে বড় বাধা। তাই মেঘমুক্ত রাতে, চাঁদের আলো কম থাকলে উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ ভালো হয়। উল্কা দেখার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। অন্ধকারের সঙ্গে চোখের মানিয়ে নিতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে যেভাবে দেখবেন উল্কাবৃষ্টি

ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য বিশেষ কোনো যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে মহাজাগতিক এ দৃশ্য ভালোভাবে উপভোগ করতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।

কৃত্রিম আলো থেকে দূরে থাকুন: শহরের উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে খোলা ও অন্ধকার জায়গা বেছে নিন। উল্কাপাত ভালোভাবে উপভোগ করতে কোনো নিরিবিলি জায়গা বেছে নেওয়া ভালো হবে।

আকাশ পরিষ্কার কি না দেখুন: মেঘমুক্ত আকাশে উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

চোখকে অন্ধকারে অভ্যস্ত হতে দিন: বাইরে যাওয়ার পর অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিন, যাতে চোখ অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

আকাশের বিস্তৃত অংশে নজর রাখুন: নির্দিষ্ট কোনো বিন্দুর দিকে তাকিয়ে না থেকে আকাশের যতটা সম্ভব বড় অংশ পর্যবেক্ষণ করুন।

ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন: উল্কা নিয়মিত বিরতিতে দেখা যায় না। তাই একটানা কিছুক্ষণ আকাশের দিকে নজর রাখুন।

ঘণ্টায় প্রায় দেড় লাখ মাইল বেগে ছুটে আসে কণা

হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণা ও ক্ষুদ্র পাথুরে কণাগুলো ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় সৃষ্ট উত্তাপের ফলে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি হয়, যা রাতের আকাশে উল্কা হিসেবে দৃশ্যমান হয়।

তাই ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে বাংলাদেশের আকাশপ্রেমীদের জন্য প্রয়োজন পরিষ্কার আকাশ, আলোকদূষণমুক্ত পরিবেশ এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।

পরবর্তী উল্কাবৃষ্টি কবে?

পরবর্তী প্রধান উল্কাবৃষ্টি সাউদার্ন টরিডস আগামী ৫ নভেম্বর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ওই সময় আকাশে সরু একফালি চাঁদ থাকার কথা, যা উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।