এবার নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতির পরামর্শ এশিয়ার দুই দেশের

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোর সরকার। তবে এবার ইউরোপ বা পশ্চিমা কোনো দেশ নয়, এশিয়ার দেশ জাপান ও থাইল্যান্ড নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের জন্য বাড়িতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) এশীয় দেশগুলোর দুর্যোগ প্রতিরোধ বিভাগ থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জাপানের নবগঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা) ও থাইল্যান্ডের দুযোর্গ প্রতিরোধ ও প্রশমন অধিদপ্তর (ডিডিপিএম) জানায়, জরুরি পরিস্থিতিতে যেন ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানো যায়, সে জন্য নাগরিকদের পর্যাপ্ত অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীসহ একটি জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশন থাই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে যেন ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানো যায়, সে জন্য থাই নাগরিকদের পর্যাপ্ত অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীসহ একটি জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাগে থাকতে হবে প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।
জরুরি এই ব্যাগ শুধু বৈশ্বিক সংঘাতের পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নয়। আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগের প্রাদুর্ভাব, অগ্নিকাণ্ড, দাঙ্গা এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতেও এটি কাজে আসবে। খাবার, পানি ও ওষুধের পাশাপাশি ব্যাগে যোগাযোগের সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, নগদ টাকা ও পোশাক রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিডিপিএমের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রত্যেকের জন্য প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার পানীয় জল রাখতে হবে। পাশাপাশি মজুত রাখতে হবে প্রস্তুত খাবার ও শক্তি জোগায় এমন শুকনো খাবার। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিশেষ স্বাস্থ্যগত চাহিদা রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
যোগাযোগের সরঞ্জামের মধ্যে থাকতে হবে মুঠোফোন, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ব্যাটারিচালিত রেডিও ও হুইসেল। ডিডিপিএমের তালিকায় আরও রয়েছে মোমবাতি, লাইটার, নোটবুক, কলম, পকেট ছুরি, কাঁচি, দড়ি ও টেপ।
দ্য জাপান টাইমসেরপ্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা অন্তত তিন দিন, সম্ভব হলে এক সপ্তাহের খাবার ও খাওয়ার পানি মজুত রাখার সুপারিশ করেছে। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও জরুরি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির প্রথম প্রধান গোশি হোসোনো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বড় কোনো দুর্যোগের সময় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের পক্ষে সব করা সম্ভব নয়। তাই নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। নানকাই ট্রফে সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে জাপানকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগসহনশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি নতুন এই সংস্থার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি এই সংস্থাকে একটি ‘শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণকক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। পূর্ববর্তী কাঠামোর চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি অর্থাৎ ৩৫২ জন কর্মী নিয়ে এই সংস্থাটি দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধারকাজ ও পুনর্গঠনের তদারকি করবে।
ন্যাশন থাই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের জন্যও একই নির্দেশনা বলে জানিয়েছে ডিডিপিএম। বিদেশি বাসিন্দা, কর্মজীবী এবং দীর্ঘমেয়াদি দর্শনার্থীদের পাসপোর্ট, ভিসা ও জরুরি যোগাযোগের তথ্যের অনুলিপিও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
ডিডিপিএমের মহাপরিচালক নিরাত পংসিথাওর্ন বলেছেন, আতঙ্ক ছড়ানো নয়, বরং দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও আগাম প্রস্তুতিতে উৎসাহিত করাই এ পরামর্শের উদ্দেশ্য। এটি দুর্যোগ মোকাবিলায় অধিদপ্তরের দীর্ঘদিনের প্রচার কার্যক্রমের অংশ।
তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি দেশও নাগরিকদের তিন দিনের খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে থাইল্যান্ড বিশেষভাবে ওই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে নেই। দেশটির এই নির্দেশনা বিভিন্ন ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেছেন, বিদেশি দেশগুলোর জরুরি সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আশা করেন, জনগণ ‘সতর্ক থাকবে, কিন্তু আতঙ্কিত হবে না’। তিনি আরও আশ্বস্ত করেছেন, থাইল্যান্ডে খাদ্যনিরাপত্তা রয়েছে।
(2)-6182f1.jpg)


