logo

বার্কশায়ারের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন ওয়ারেন বাফেট

দ্য গার্ডিয়ান
দ্য গার্ডিয়ান
বার্কশায়ারের চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন ওয়ারেন বাফেট
২০২৪ সালের ৩ মে নেব্রাস্কার ওমাহাতে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ইনকর্পোরেটেডের বার্ষিক শেয়ারহোল্ডারদের সভায় যোগ দেন ওয়ারেন বাফেট। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ববিখ্যাত বহুজাতিক শিল্পগোষ্ঠী বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কিংবদন্তি বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট। ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানেন।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি কোম্পানিটিকে সংকটাপন্ন বস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বহুজাতিক সংস্থায় পরিণত করেছেন। এবার ১৯৭০ সাল থেকে টানা সামলে আসা চেয়ারম্যানের পদটিও ছাড়লেন এই বিলিয়নিয়ার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, কনগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ওয়ারেন বাফেটের ৭১ বছর বয়সী ছেলে হাওয়ার্ড। ৯৬ বছর বয়সী বাফেট এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে নিজের বয়সের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, তার এক বছর বয়সী এক নাতি আছে, যে ‘আজকাল আমার চেয়েও একটু বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন’।

শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে বাফেট বলেন, ‘আপনাদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্য, এবং আমি আপনাদের বিশ্বাসকে কখনো হালকাভাবে নেইনি। সময়ের জয় সবসময়ই হয়। তবে, তিনি আমার প্রতি উদারই ছিলেন। তিনি আমাকে বার্কশায়ারকে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ দিয়েছেন, যেখানে ভবিষ্যত নিয়ে আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’

বাফেট জানিয়েছেন, তিনি এমেরিটাস চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ২০২৫ সালের মে মাসে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ান বাফেট। নেব্রাস্কার ওমাহায় কোম্পানির বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার সভায় উপস্থিত হাজারো মানুষকে ওই ঘোষণা হতবাক করে দেয়। কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেগ অ্যাবেল তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিইও হন।

‘ওমাহার ওরাকল’ নামে পরিচিত বাফেট একজন তীক্ষ্ণদৃষ্টিসম্পন্ন বিনিয়োগকারী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তার নেতৃত্বে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বহুজাতিক সংস্থায় পরিণত হয়। এই সংস্থার মালিকানায় নির্মাণ, উৎপাদন, ভোগ্যপণ্য ও বীমা খাতের কয়েক ডজন কোম্পানি রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারের কয়েকটি বৃহত্তম কোম্পানি, যেমন এনভিডিয়া, অ্যাপল, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট ও মেটার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী বার্কশায়ার।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, বাফেটের মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪৫ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তিনি বিশ্বের ১০তম ধনী ব্যক্তি। ‘হাওয়ি’ নামে পরিচিত হাওয়ার্ড বাফেট বাফেটের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয়। ১৯৯৩ সাল থেকে তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে তার বাবার উত্তরসূরি করার পরিকল্পনা ছিল।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাফেট ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে বলেছিলেন, ‘সে এটা পাচ্ছে কারণ সে আমার ছেলে। আমি এ ব্যাপারে খুবই, খুবই, খুবই ভাগ্যবান যে আমি আমার তিন সন্তানকেই বিশ্বাস করি।’