logo

দিল্লিতে নজর কাড়ছে পুতিন-শির দুই সাঁজোয়া গাড়ি

এনডিটিভি
এনডিটিভি
দিল্লিতে নজর কাড়ছে পুতিন-শির দুই সাঁজোয়া গাড়ি
পুতিনের অরুস সেনাত। ছবি: এএফপি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ আয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নেতাদের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলন ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি দুই নেতার ব্যবহৃত বিশেষ সাঁজোয়া গাড়িও নজর কাড়ছে।

দূর থেকে দেখতে রাজকীয় লিমোজিন হলেও নিরাপত্তার দিক থেকে এগুলো অনেকটা চলন্ত দুর্গ। পুতিনের জন্য রয়েছে রাশিয়ায় তৈরি অরুস সেনাত, আর শি জিনপিংয়ের বহরে রয়েছে চীনের হংছি এন৭০১। রাষ্ট্রপ্রধানদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দুটি গাড়িই।

পুতিনের অরুস সেনাত

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত অরুস সেনাত বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সরকারি গাড়ি হিসেবে পরিচিত। বিলাসবহুল এই লিমোজিনে গুলির আঘাত ও বিস্ফোরণ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

পুতিন বিদেশ সফরে গেলে তার নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে অরুস সেনাতও নেওয়া হয়। ব্রিকস সম্মেলনের জন্যও গাড়িটি বিশেষ বিমানে মস্কো থেকে দিল্লিতে আনা হয়েছে।

গাড়িটি তৈরি করেছে রাশিয়ার অরুস মোটরস। এর উন্নয়নে দেশটির রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনএএমআই, সোলার্স জেএসসি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের তাওয়াজুন হোল্ডিং যুক্ত ছিল। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো গাড়িটি প্রকাশ্যে আসে। এর নকশায় সাবেক সোভিয়েত আমলের জেডআইএস–১১০ লিমোজিনের প্রভাব রয়েছে।

ভারী বর্ম ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধ

অরুস সেনাতের প্রকৃত নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে ভারী বর্ম, গুলিরোধী কাচ এবং বিস্ফোরণের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য বিশেষ কাঠামো রয়েছে।

এ ছাড়া গাড়িটিতে আধুনিক ড্রাইভিং ও নিরাপত্তা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সক্রিয় ক্রুজ নিয়ন্ত্রণ, লেন পরিবর্তনের সতর্কতা, ট্র্যাকশন নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত ব্রেকিং ব্যবস্থা।

অরুস সেনাতের বেসামরিক সংস্করণও বাজারে রয়েছে। তবে এর উৎপাদন সীমিত এবং সরকারি সংস্করণের তুলনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম।

শি জিনপিংয়ের ‘হংছি এন৭০১’। ছবি: রেডিট
শি জিনপিংয়ের ‘হংছি এন৭০১’। ছবি: রেডিট

শি জিনপিংয়ের হংছি এন৭০১

পুতিনের অরুস সেনাতের মতো শি জিনপিংয়ের হংছি এন৭০১-ও চীনের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এফএডব্লিউ গ্রুপ গাড়িটি তৈরি করেছে। ১৯৫৮ সাল থেকে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য হংছি ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরি হয়ে আসছে।

হংছি এন৭০১-এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ৫ মিটার। গাড়িটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বেশির ভাগ তথ্যই গোপন রাখা হয়েছে।

বর্ম ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হংছি এন৭০১-এর বহিরাবরণে ভারী বর্ম এবং গুলিরোধী কাচ ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার পরও গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ধরনের চাকা ও টায়ার ব্যবহারের কথাও জানা যায়।

এ ছাড়া গাড়িটির কেবিনে রাসায়নিক বা বিষাক্ত পদার্থের আক্রমণ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকার কথা রয়েছে। তবে এসব নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য চীনা কর্তৃপক্ষ বা নির্মাতা প্রকাশ করেনি।

গাড়িটি সাধারণ বাজারের জন্য তৈরি নয়। সীমিত সংখ্যায় উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং মূলত চীনের শীর্ষ রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ব্যবহারের জন্যই এটি তৈরি করা হচ্ছে।

বিদেশ সফরেও সঙ্গে থাকে শির গাড়ি

বিদেশ সফরে চীনের শীর্ষ নেতারা আগে অনেক সময় আয়োজক দেশের সরবরাহ করা গাড়ি ব্যবহার করতেন। শি জিনপিং সেই রীতিতে পরিবর্তন এনেছেন। এখন তিনি বিদেশ সফরে গেলে নিজের সাঁজোয়া সরকারি গাড়ি বিমানে করে সঙ্গে নিয়ে যান।

রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসর সফরের সময়ও তার সরকারি গাড়ি সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনেও হংছি এন৭০১ ব্যবহারের কথা জানা গেছে।

গাড়ির আড়ালে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার বার্তা

অরুস সেনাত ও হংছি এন৭০১—দুটি গাড়িই শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের যাতায়াতের মাধ্যম নয়। এগুলো রাশিয়া ও চীনের নিজস্ব প্রযুক্তি, শিল্প সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাব্যবস্থারও প্রতীক।

অরুস সেনাতের মাধ্যমে রাশিয়া নিজস্ব রাষ্ট্রীয় গাড়ি তৈরির সক্ষমতা তুলে ধরছে। অন্যদিকে হংছি এন৭০১ চীনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় স্বনির্ভরতার প্রতিচ্ছবি।

দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে একই সময়ে পুতিনের অরুস সেনাত ও শি জিনপিংয়ের হংছি এন৭০১ উপস্থিতি তাই কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয়—দুই দেশের প্রযুক্তি, শিল্প ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতারও এক নীরব প্রদর্শনী।