বাংলাদেশসহ একাধিক দেশ নিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করল ইসরায়েল

আসন্ন ধর্মীয় ছুটির মৌসুম সামনে রেখে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান নিয়ে নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ার এসব দেশগুলো ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে দখলদার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জরুরি ভ্রমণ নির্দেশনায় ইসরায়েলিদের এসব দেশ ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতেও বলেছে। যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা পরিষদের দাবি, বিশ্বজুড়ে হুমকির পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরান, হিজবুল্লাহ ও হামাসের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে উসকানিমূলক প্রচারণা এবং সন্ত্রাসী হামলার আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উসকানিমূলক প্রচারণা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ইসরায়েলি ও ইহুদি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ইচ্ছা তীব্র হয়েছে বলে পরিষদটি সতর্ক করেছে।
পরিষদ বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে হিজবুল্লাহর ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও তাদের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার৫ আকাঙ্ক্ষার কারণে গোষ্ঠীটি এখনও একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে রয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, এ ছাড়াও আল-কায়েদা ও আইএসের মতো চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোও বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ায় ‘লোন উলফ’ বা একাক হামলা চালানের জন্য প্রকাশ্য প্ররোচনা দিচ্ছে। আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হুতি গোষ্ঠীও প্রভাব ফেলছে।
নিরাপত্তা পর্যালোচনায় ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে তুরস্ক, আজারবাইজান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি অপতৎপরতার উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিশর (সিনাই উপদ্বীপসহ) ‘লেভেল ৪’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে ইসরায়েলি নাগরিকদের সেখানে যাতায়াত ও টার্মিনালের বাইরে যাত্রাবিরতি পুরোপুরি এড়িয়ে চলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের জন্য ইরাক (কুর্দিস্তানসহ), ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া ও লেবাননে সফর পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এ ছাড়াও বাংলাদেশ, সৌদি আরব, পাকিস্তান, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া এবং আলজেরিয়াকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পরিষদ থেকে সেগুলোতে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
