ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান ইইউর

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এই প্রতিনিধিদলে ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসও রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ইইউর কূটনৈতিক বিভাগের মুখপাত্র আনোয়ার এল আনুনি শনিবার বলেন, টানা দ্বিতীয় বছর ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের প্রবেশ ভিসা না দেওয়ার ঘটনায় তারা দুঃখিত। জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সদর দপ্তরসংক্রান্ত চুক্তি এবং আয়োজক দেশ হিসেবে ওয়াশিংটনের দায়িত্ব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত বছরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে ভিসা দেয়নি। ফলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নিয়মিত বক্তা মাহমুদ আব্বাসকে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।
এবারও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ১৫২-৩ ভোট পড়ে। ফলে আগামী মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি মিশনের সদস্যরাই সরাসরি অংশ নিতে পারবেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিনের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
ভিসা না দেওয়ার পেছনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি ব্যবস্থার সমালোচনা করে আসছে, যার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হতো। তাদের অভিযোগ ছিল, হামলাকারীদের পরিবারের সদস্যরাও এই অর্থ পেতেন।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ওই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা কারাগারে থাকার বিষয়কে বিবেচনা না করে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে কল্যাণ সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে এগিয়ে নেওয়ার কিছু উদ্যোগেরও তারা বিরোধিতা করে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে পদক্ষেপ এবং আলোচনার বাইরে গিয়ে ফিলিস্তিনকে একতরফাভাবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনও ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা’ দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বক্তব্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে থাকে।
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। গত বছর জাতিসংঘে ১৪২টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এদিকে, মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
