অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার

এএফপি
অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ও বেসরকারি খাতের দুর্নীতি দমন ও রাষ্ট্রীয় অপচয় রোধে নজিরবিহীন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। রাষ্ট্রায়ত্ত সাড়ে ৭০০টির বেশি অলাভজন ও অনুৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। দেশটিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৭৪টি।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সংসদে ‍জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তছরুপের তদন্তে গত ৩০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ অ্যাডহক আদালত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির এই শীর্ষ নেতা।

সংসদে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে প্রাবোও বলেন, ‘অত্যধিক অনুৎপাদনশীল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেগুলো কাগজে-কলমে ভুয়া মুনাফা দেখায় কিন্তু বাস্তবে সর্বদা লোকসানের মুখে পড়ে।’

তিনি জানান, গত বছর দানান্তারা সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের পর ১ হাজার ৭৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯০টি বন্ধ করা হয়েছে ও চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই সংখ্যা কমিয়ে ৩০০-র নিচে আনা হবে।

প্রাবোও এই পদক্ষেপকে ‘সম্ভবত বিশ্বের বৃহত্তম করপোরেট পুনর্গঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেবল পরিচালন ব্যয়, বেতন, ভবন ভাড়া ও ভ্রমণ খরচ কমিয়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ (২.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি) সাশ্রয় করা হয়েছে। চলতি বছরে ৭০ ট্রিলিয়ন রুপিয়াহ সঞ্চয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার লাগাম টানতে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি প্রাবোও উল্লেখ করেন, গত ৩০ বছরের পরিচালনা পর্ষদের তদন্তের জন্য অ্যাডহক আদালত গঠনের পাশাপাশি কোনো কর্মকর্তা স্বপ্রণোদিত হয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করলে তাদের জন্য ‘বিশেষ ক্ষমা’ বিবেচনার সুযোগ রাখা যেতে পারে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (প্রতিবেদনে উল্লিখিত সূচক) ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৪ স্কোর পেয়ে চরম সংকটে রয়েছে দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে তেলের আকাশচুম্বী দাম ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে চলা গণবিক্ষোভে দুর্নীতি বন্ধের দাবিই প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট তার বহুল আলোচিত ও ব্যয়বহুল ‘বিনামূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচি’ আরও দক্ষভাবে চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়ার প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন খর্বকায়তায় ভুগবে, তা মেনে নেওয়া যায় না।’

অলাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা ইন্দোনেশিয়ার