নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ১৫৭, নিখোঁজ চার শতাধিক

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
নেপাল পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়, ৪৭ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৪ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার বেশ কয়েকজন নাগরিকও নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বড় একটি অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।
স্থানীয় নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৬২ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন। তারা রাসুয়া জেলার গোসাইকুণ্ড হ্রদ এলাকায় ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে ভ্রমণ করছিলেন। এ ছাড়া নেপাল পুলিশের অন্তত ২৮ সদস্যের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির প্রবাহ বেড়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই পানি, কাদা, পাথর ও বরফের প্রবল স্রোত নদীতীরবর্তী জনপদে আঘাত হানে। এতে কয়েকটি গ্রাম, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্তত ১৯টি সেতু ভেসে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে নেপালি কর্তৃপক্ষ।
কাঠমান্ডুভিত্তিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফ ও পাথরের বিশাল ধস নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে আসে। মাত্র আধা ঘণ্টায় ত্রিশূলী নদীর পানি কোনো কোনো স্থানে প্রায় ৯ মিটার বেড়ে গিয়েছিল।
প্রথম দিকে ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহ ধসের কথা বলা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে বন্যার আগে ভূমিকম্প হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্যোগের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্গত এলাকায় নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। অভিযানে ১ হাজার ৬৯৭ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে এবং আরও ৬৫৬ জনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রয়টার্সের আগের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ১১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা।
সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায় ভূমিধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৬৫ জন। ফলে নেপাল ও চীন মিলিয়ে এই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা অন্তত ১৬০ জনে পৌঁছেছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। উদ্ধার, চিকিৎসা, খাবার ও আশ্রয়ের দায়িত্ব সরকার নেবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। নেপালের অনুরোধে ভারত ও চীন উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে। জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থাও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশও নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।

