logo

বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

বিবিসি বাংলা
বিবিসি বাংলা
বিদেশি কর্মী নিয়োগে মাইক্রোসফটসহ আট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক কর্মী ও অভিবাসন বিষয়ে হোয়াইট হাউস মাঝেমধ্যেই কঠোর মন্তব্য করছে। ছবি: বিবিসি বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া সীমিত করতে মাইক্রোসফটসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও বিচারাধীন পার্ম (PERM) আবেদন অনুমোদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে এইচ-১বি ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, দেশটির অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি মার্কিন কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে শ্রমমন্ত্রী কিথ সন্ডারলিং জানান, মাইক্রোসফট ছাড়াও অ্যাডোবি, কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল ও ক্যাপজেমিনির নতুন কিংবা বিচারাধীন পার্ম আবেদন অনুমোদন করা হবে না।

ভ্যান্সের অভিযোগ, মাইক্রোসফট একই সময়ে প্রায় ছয় হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে এবং ছয় হাজার ৮০০টি এইচ-১বি ভিসার আবেদন জমা দিয়েছে। তার মতে, এই পরিসংখ্যান মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রবণতা নির্দেশ করে। তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের নিয়োগের ফলে কর্মীদের মজুরি কমিয়ে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে মাইক্রোসফট এসব অভিযোগের জবাবে জানিয়েছে, গত অর্থবছরে তাদের জমা দেওয়া এইচ-১বি ভিসার আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশই প্রতিষ্ঠানে আগে থেকে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ছিল। অর্থাৎ, এসব আবেদন নতুন কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাইক্রোসফটের অধিকাংশ কর্মীই মার্কিন নাগরিক। এ ছাড়া এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদেরও সমপর্যায়ের মার্কিন কর্মীদের মতোই বেতন ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতেও প্রতিষ্ঠানটি প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।

বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করে এমন একটি কোম্পানি এলিসের তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোসফটে এইচ-১বি ভিসাধারী একজন কর্মীর গড় বার্ষিক বেতন প্রায় এক লাখ ৫৫ হাজার ডলার।

শ্রমমন্ত্রী সন্ডারলিংয়ের অভিযোগ, মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত ‘ভিসা তৈরির কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন শ্রমবাজার ভরিয়ে তুলছে।

এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার নতুন ভিসা দেওয়ার সীমা রয়েছে। কয়েক দশক ধরে বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের নিয়োগে এই কর্মসূচি ব্যবহার করে আসছে মার্কিন প্রযুক্তি খাত। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানও এ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ করে থাকে। তবে ভ্যান্সের বৃহস্পতিবারের বক্তব্যে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়নি।

পার্ম বা স্থায়ী শ্রম সনদ প্রক্রিয়া বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি, অর্থাৎ গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যতম পথ। এর মাধ্যমে অনুমোদন পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন। গত অর্থবছরে মার্কিন শ্রম দপ্তর বিভিন্ন খাতের এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি পার্ম আবেদন অনুমোদন করেছিল।

এদিকে, ভ্যান্সের সমালোচনার দিনই মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে অবদানের জন্য একটি পদক গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নাদেলার প্রশংসা করেন এবং তাঁকে সম্মানিত করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং, লিসা সু, সের্গেই ব্রিন ও মাইকেল ডেলও ওই পদক পেয়েছেন।

বিদেশি কর্মীদের ভিসা স্পনসর করা প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরি হারালে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি খোঁজার জন্য ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড পাওয়া যায়। তবে গত মাসে মার্কিন সরকার এ সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাইক্রোসফটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সরকারের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি সব কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।