নির্বাচনে হেরে যাওয়ার শঙ্কায় নেতানিয়াহু, বললেন ‘খুব চিন্তিত’

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ (নেসেট) নির্বাচন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন দখলদার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গাজা, ইরান ও লেবানন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তীব্র অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত চাপের মুখে এবারের নির্বাচনে জয়ী হওয়া তার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাকঢাক না রেখে পুনরায় নির্বাচিত হওয়া নিয়ে নিজের দুশ্চিন্তার কথা এবার খোলাখুলিই স্বীকার করেছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ইসরায়েলি রেডিও ‘নর্থ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘আমাদের জয় নিশ্চিত করতে হবে। আমি নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত নই এবং খুব চিন্তিত।’
পরবর্তী সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি রাজনীতি ছেড়ে যাবেন না। রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সোজা বলেন, ‘না, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব না।’
সাক্ষাৎকারে নিজ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইইসরায়েল বেইটিনু দলের প্রধান ও সাবেক মন্ত্রী আভিগডর লিবারম্যানের তীব্র সমালোচনা করেন ডানপন্থি লিকুদ পার্টির এই চেয়ারম্যান। তার দাবি, তাদের নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, মনসুর আব্বাস (ইউনাইটেড আরব লিস্ট দলের নেতা) ও আহমদ তিবিকে (তায়াল পার্টির নেতা) ছাড়া গাদি আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন না; এমনকি তাদের নিজেদের হিসাবে আসনসংখ্যা বেশি দেখালেও নয়। (১২০ আসনের মধ্যে) ৬১টি আসনে (ম্যাজিক ফিগার) পৌঁছাতে তাদের দুজনকেই প্রয়োজন হবে।’
ভোটারদের হুঁশিয়ার করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আত্মসমর্পণকারী ও অচল একটি সরকার চান, যে সরকার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলের শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে না, তাহলে গাদি আইজেনকোটকে ভোট দিন।’
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি মোকাবিলায় আইজেনকোট সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবেন দাবি করে তিনি বলেন, আইজেনকোট আগে বলেছিলেন ‘একটি পারমাণবিক ইরানকে মেনে নিতে হবে’ এবং ‘আলী খামেনিকে হত্যা করা ভুল ছিল’।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আইজেনকোটের কোনো অবস্থান নেই উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আইজেনকোট কি যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন? তিনি কি তার শক্তিগুলোকে কাজে লাগাতে পারবেন? তিনি কি আদৌ কিছু বোঝেন? ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় থাকতে হবে। তাকে বুঝতে হবে, অস্তিত্বের সংকটের মুখে কোনো আপস চলে না।’
সাক্ষাৎকারের শেষ অংশে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত-এর সাবেক প্রধান রোনেন বারের দায়ের করা মানহানির মামলা নিয়ে কথা বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। রোনেন বারের সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো তাকে মিথ্যাচারের জন্য অভিযুক্ত করেন তিনি।
নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘আমি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রকের কাছে প্রায় এক হাজার নথি জমা দিয়েছি, যার কয়েকটি অনলাইনেও পাওয়া যায়। সবকিছু সেখানেই আছে। আপনারা দেখতে পাবেন, পুরো সময়জুড়েই, এমনকি হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগেও (২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রসঙ্গে) এই ব্যক্তি একটি সারসংক্ষেপ জারি করে সুবিধার বিনিময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিলেন। তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে মিথ্যা বলে আসছেন।’

