logo

রাশিয়াকে নিয়ে বক্তব্যে ইউরোপীয় নেতাদের সংযত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

রয়টার্স
রয়টার্স
রাশিয়াকে নিয়ে বক্তব্যে ইউরোপীয় নেতাদের সংযত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ছবি: উইকিপিডিয়া

রাশিয়াকে ঘিরে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি দেশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ইউরোপীয় নেতাদের কিছু মন্তব্যের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত চার ব্যক্তির বরাত দিয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে প্রকাশ্যে রাশিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পেন্টাগন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বার্তা দেয়া হয়েছে। তবে ইউরোপের অন্য সরকারগুলোকেও একই ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ কারণে এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানায়, ইউরোপীয় নেতাদের কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। এসব মন্তব্যে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে সুবিধা করতে না পেরে রাশিয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সংখ্যা নিয়ে কাজ করা পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে এই বার্তা পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ উদ্যোগে আর কোন কোন মার্কিন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।

এদিকে রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর করণীয় নিয়ে জোটের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের মতে, মস্কোর কর্মকাণ্ড নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখালে তা রাশিয়ার কৌশলকেই সফল করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন দুর্বল করাই ক্রেমলিনের অন্যতম লক্ষ্য।

অন্য পক্ষের যুক্তি, রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে ইউরোপীয় সরকারগুলোর জনগণের কাছে স্বচ্ছ থাকা প্রয়োজন। মস্কোর প্রভাব মোকাবিলায় কী ধরনের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে কী পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে নাগরিকদের স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত গোপন তৎপরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

তবে রাশিয়া ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের গোপন অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।