এবার নতুন ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশলে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বড় সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে ইরান। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের গতি বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের অস্ত্রভাণ্ডারে টান ফেলতে বাধ্য করার পর, এবার নতুন ‘আক্রমণাত্মক’ কৌশল গ্রহণ করেছে দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
বুধবার (১২ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির প্রধানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা নাগদি বলেন, ইরানের সমস্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম এখন দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে উৎক্ষেপণের বা নিক্ষেপের হারের চেয়েও দ্রুতগতিতে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন করছে ইরান। ফলে বছরের পর বছর যুদ্ধ চললেও শত্রুর ওপর এই আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।
ব্রাজিল ও বৈশ্বিক প্রতিরক্ষামূলক বাজেট তুলে ধরে নাগদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চেয়ে অন্তত ১০০ গুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও সাম্প্রতিক যুদ্ধে শত্রুপক্ষের ১৪টি প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। আর এই বিজয়ের মূল চালিকাশক্তি ছিল বিশ্বাসের শক্তি।
তবে যুদ্ধে নিজস্ব বিমানবাহিনীর আধুনিক যুদ্ধবিমানের ঘাটতি কিছুটা উদ্বেগের কারণ হলেও, আইআরজিসিকে এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে শত্রুর ভূখণ্ডে সরাসরি অভিযান পরিচালনা করার মতো নতুন আক্রমণাত্মক মতবাদ ও প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাগদি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই শত্রুর ভূখণ্ডে, শত্রুর ভূমিতে অভিযান চালাতে এবং আমাদের নিজেদের ভূখণ্ড থেকে দূরে অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হতে হবে। এগুলো একটি আক্রমণাত্মক মতবাদের বৈশিষ্ট্য যা অবশ্যই পূরণ করতে হবে। আইআরজিসিকে এখন এই প্রস্তুতি অর্জন করতে, এই সক্ষমতা গড়ে তুলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইআরজিসির প্রধানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ‘শত্রুর ভূমিতে অভিযান’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন। কারণ ইসরায়েলে ইতোমধ্যে ইরানি গোয়েন্দা তৎপরতা ও ২০২৫ সালের স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
তবে ভৌগলিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এবার হয়তো যুদ্ধবিমানের দিকেও তেহরান মনোযোগ দিচ্ছে বলে মত অনেকের।

