logo

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প, জেলেনস্কির সমালোচনা

এএফপি
এএফপি
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পক্ষে ট্রাম্প, জেলেনস্কির সমালোচনা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

রাশিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা এগিয়ে নিতে মস্কোকে আলোচনার টেবিলে রাখাই তার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান না চাওয়ার অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প রাশিয়ার বিষয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাশিয়াকে শান্তি আলোচনার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।

শুক্রবার গভীর রাতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে আসে। প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে প্রণীত একটি আইনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান রয়েছে। তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। গ্রাহাম ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার অন্যতম জোরালো সমর্থক ছিলেন।

এ ছাড়া জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যেও রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে রাশিয়ার বিপুল পরিমাণ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তে ইউক্রেন ও দেশটির মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। জিম্মিদের নিয়ে চলমান আলোচনাও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে একটি নথিতে স্বাক্ষরের প্রসঙ্গে কথা বললেও সেটি ঠিক কোন নথি, তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে এএফপি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পায়নি।

রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা খুবই সীমিত, এমনকি কার্যত নেই বললেই চলে। তার মতে, মস্কো চাইলে তেহরানকে আরও বেশি সহায়তা করতে পারত। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকুক বলেও নিজের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

এদিকে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এসব হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ও বাজারব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ট্রাম্প বলেন, জেলেনস্কি জানেন যে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ ব্যাহত করছে। তা সত্ত্বেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপুল আর্থিক সহায়তা এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের দেওয়া সহায়তার পরও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের অবসান চান না। এমনকি তিনি আদৌ কখনো যুদ্ধ বন্ধ করতে চেয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।