logo

রিয়াদে হুতিদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের

এএফপি
এএফপি
রিয়াদে হুতিদের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি সৌদি জোটের
হুতিদের নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তরে প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ছবি: এএফপি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উত্তরে প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। একই সময়ে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতিদের দখলে থাকা এলাকাগুলো পুনর্দখলে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে। সংবাদ সংস্থা এএফপি বুধবার (৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানায়।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা পাল্টা দাবি করেছে, তারা রিয়াদসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, এডেন বিমানবন্দর লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে।

সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, রিয়াদের উত্তরে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আবহা বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো “সঠিকভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত” করেছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আক্রান্ত করার দাবি করেছে হুতিরা।

বিমানবন্দর নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ বিমানবন্দরের আকাশসীমা ঘন ঘন সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব বন্ধের বিষয় প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি এবং বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে হামলার কথাও নিশ্চিত করেনি।

তবে মঙ্গলবার সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নাজরান বিমানবন্দরে আগের দিনের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই

ইয়েমেন সরকারের পাল্টা অভিযানে সৌদি আরব বিমান সহায়তা দিচ্ছে। সরকারি বাহিনী সোমবার দাবি করে, তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও বন্দরনগরী মোচার আশপাশের এলাকা থেকে হুতিদের সরিয়ে দিয়েছে।

তবে হুতিরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইয়াহিয়া সারি বলেন, গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় দখল করা সব অঞ্চল এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি বাহিনী আল-ওয়াজিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে তাদের অবস্থানের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে হুতিরা তাদের প্রতিহত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারি বাহিনী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজের কয়েকটি এলাকা থেকেও হুতিদের সরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে। তবে মোচা পুনর্দখলের দাবি নিশ্চিত করেনি সামরিক সূত্রগুলো; তারা শুধু জানিয়েছে, ওই এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মারিব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলেও সরকারি বাহিনী অগ্রগতির দাবি করেছে। ইয়েমেন সরকার জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব এলাকা পুনর্দখল করা—যেসব অঞ্চলে দেশটির অধিকাংশ জনসংখ্যার বসবাস এবং যেগুলোর অনেকটাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে।

এক দিনে নিহত ২৭০-এর বেশি

উভয় পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং সাংবাদিকদের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন।

তবে উভয় পক্ষের সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার এক দিনে ইয়েমেনজুড়ে সংঘর্ষে সরকারি বাহিনী ও হুতি যোদ্ধা মিলিয়ে ২৭০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

হুতিদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, হেজ্জাহ প্রদেশের একটি গ্রামে সৌদি বিমান হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু।

মোচা থেকে এডেনে পালিয়ে আসা ৩৩ বছর বয়সী এক ত্রাণকর্মী এএফপিকে বলেন, সেখানকার মানুষ আতঙ্কিত। তাঁর ভাষায়, মোচায় জীবনযাত্রা পুরোপুরি থমকে গেছে এবং শহরটি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

এদিকে সোমবার পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় দেশটিতে সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।