আলজাজিরার বিশ্লেষণ/ফিলিস্তিনিদের মানুষ মনে করেন না ট্রাম্প

ফিলিস্তিনিদের মানুষ মনে করেন না ট্রাম্প
গাজা উপত্যকাকে ‘অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী’ বানানোর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কল্পিত পরিকল্পনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উত্থাপিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা কোনো প্রকার রাখঢাক না রেখেই প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। উপত্যকায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও দখলদারিত্ব থেকে সরে না দাঁড়িয়ে উল্টো আগ্রাসন অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন যে, তার প্রধানমন্ত্রিত্ব থাকাকালে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হতে দেবেন না।

Advertisement

জায়নবাদী সরকারপ্রধানের এই মন্তব্যের পর কড়া প্রতিক্রিয়া দাগিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক অ্যান্টনি লোয়েনস্টাইন। ইহুদি বংশোদ্ভূত এই চলচ্চিত্র নির্মাতার মতে, নেতানিয়াহুকে এই পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য করার মতো যথেষ্ট রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা ওয়াশিংটনের থাকলেও, কৌশলগত ইচ্ছার অভাবেই তা প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

লোয়েনস্টাইন বলেন, ইসরায়েলকে সঠিক পথে আনার জন্য আমেরিকার কাছে একের পর এক কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তারা ইসরায়েলকে দেওয়া প্রত্যক্ষ আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিতে পারে, সামরিক সহায়তার চালান আটকে দিতে পারে, এমনকি জাতিসংঘে ইসরায়েলের পক্ষে ভেটো বা ভোট দেওয়ার নীতিতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এগুলো সবই ওয়াশিংটনের সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।

তবে মূল সংকট ক্ষমতার অভাব নয়, বরং মার্কিন নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। লোয়েনস্টাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আসল সত্যটা হলো আমেরিকা কখনোই এই ক্ষমতাগুলো প্রয়োগ করবে না। কারণ ট্রাম্প, জ্যারেড কুশনার কিংবা স্টিফেন মিলারের মতো যারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি, তারা ফিলিস্তিনিদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গণ্য করে না। ইহুদি ইসরায়েলিদের সমান মর্যাদা ফিলিস্তিনিদের দেওয়ার মানসিকতা তাদের নেই। ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত যে কোনো চুক্তি বারবার ব্যর্থ হওয়ার পেছনে এটিই সবচেয়ে বড় মৌলিক সমস্যা।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর গাজা শান্তি পরিকল্পনা নেতানিয়াহু সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই বলে মনে করেন ‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ গ্রন্থের এই লেখক। তার মতে, কেবল বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাই নন, গোটা ইসরায়েলি রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও গাজা যুদ্ধ বন্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

আলজাজিরাকে লোয়েনস্টাইন বলেন, ‘কেবল নেতানিয়াহুই নন, তার মন্ত্রিসভা এবং ইসরায়েলি ইহুদি জনসংখ্যার একটি বড় অংশ একই ধরনের চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে। এমনকি আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহু হেরে গেলেও যেসব বিকল্প নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তাদের মানসিকতাও মূলত একই রকম।’

তিনি স্পষ্ট করেন যে, গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব কিংবা উপস্থিতি কমানোর কোনো মানসিকতা বা জনসমর্থন ইসরায়েলে অবশিষ্ট নেই।

লোয়েনস্টাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাজায় ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করা বা তাদের জীবনের প্রতি ন্যূনতম খেয়াল রাখার মতো মানবিক ইচ্ছা সেখানে অনুপস্থিত। গত প্রায় তিন বছরে ইসরায়েলি হামলায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের সিংহভাগই বেসামরিক। কিন্তু এই নৃশংসতা ও প্রাণহানি ইসরায়েলি সমাজের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা লজ্জাবোধ তৈরি করতে পারেনি। ফলে নেতানিয়াহু কোনোপ্রকার জবাবদিহিতা বা শাস্তির মুখোমুখি না হয়েই অবাধে এই আগ্রাসন চালিয়ে যেতে পারছেন।’

ফিলিস্তিনিদের মানুষ মনে করেন না ট্রাম্প