ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ছাড়া উপায় নেই নেতানিয়াহুর

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ছাড়া উপায় নেই নেতানিয়াহুর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এমন স্পষ্ট অবস্থান ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে পারে—তবু আসন্ন নির্বাচনের আগে এটিই নিজের জন্য সবচেয়ে কম ঝুঁকির পথ বলে মনে করছেন নেতানিয়াহু।

Advertisement

রোববার ইসরায়েলের সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ১৫ দফা নথি গ্রহণ করে না। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে তিনি একই কথা দুবার বলেন।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজায় ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের একটি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে কোনো সেনা প্রত্যাহার করবে না।

তিনি বলেন, হামাসের ভারী ও হালকা—সব ধরনের অস্ত্রই জমা দিতে হবে। শুধু কাগজে-কলমে নয়, প্রকৃত অর্থেই হামাসকে নিরস্ত্র হতে হবে।

ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রধান দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, অস্ত্র সত্যিকার অর্থে সরিয়ে নেওয়া ও অকার্যকর করার বিষয়টি যাচাই করা গেলে এরপর ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। অর্থাৎ, ধাপে ধাপে একটি প্রক্রিয়া এখনো সম্ভব বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এদিকে হামাস নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরও ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ নেতানিয়াহুর ওপর চাপ প্রয়োগ করবে বলে তারা আশা করে।

তবে হামাস সত্যিই সব অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়েও ব্যাপক সংশয় রয়েছে। গাজায় প্রায় দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা হামাসের কাছে অস্ত্র শুধু সামরিক শক্তি নয়, নিজেদের নেতৃত্ব ও টিকে থাকার অন্যতম ভিত্তি।

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এমন কঠোর অবস্থানের পেছনে আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নির্বাচন হতে আর ১২ সপ্তাহেরও কম সময় বাকি। বিভিন্ন জনমত জরিপে নেতানিয়াহু কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন।

ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের সমর্থনে জোট তৈরি করতে হয়। নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। এসব দলের নেতারা ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন। এমনকি গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের আগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিও উঠেছে।

ফলে ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রতি নমনীয় অবস্থান নিলে নির্বাচনের আগে ডানপন্থী সমর্থকদের হারানোর ঝুঁকি রয়েছে নেতানিয়াহুর। শুধু কট্টর ডানপন্থীরাই নয়, ইসরায়েলের অধিকাংশ ভোটারও গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে ভালোভাবে নেন না বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, নেতানিয়াহু শুধু ডানপন্থী মিত্রদের খুশি করতেই ট্রাম্পের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করছেন। ইসরায়েলের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র না করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনীহা রয়েছে।

গাজা উপত্যকার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা অবশ্য এই রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে রয়েছেন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইসরায়েল, হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চললেও গাজার মানুষের নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখার সুযোগ খুবই সীমিত।

ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান ছাড়া উপায় নেই নেতানিয়াহুর