অভিজিৎ দীপকের আটকের পর সিজেপির নেতৃত্বে অজিঙ্কা শিন্ডে, কে এই তরুণ?

ভারতে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ শীর্ষ নেতারা আটক হয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি ও দলের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন মহারাষ্ট্রের ৩৫ বছর বয়সী অজিঙ্কা শিন্ডে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীপকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী শিন্ডেকে অন্য নেতারা মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সমর্থকদের দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে এগিয়ে যেতে এবং পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শিন্ডে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের ঐক্য দেখে সরকার ভয় পাচ্ছে। দয়া করে যন্তর মন্তরে আসুন। পুলিশ যদি আপনাদের বাধা দেয়, সেই জায়গাকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করুন।’
কে এই অজিঙ্কা শিন্ডে?
৩৫ বছর বয়সী অজিঙ্কা শিন্ডে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। কম্পিউটার বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি পুনেতে একটি আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরে চাকরি ছেড়ে আম আদমি পার্টিতে (এএপি) কর্মী হিসেবে যোগ দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বাবা-মা আলিবাগে কৃষিকাজ করতেন। পরে তারা লাতুরে বসতি গড়েন।
অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে শিন্ডের পরিচয় দীর্ঘদিনের। তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল ২০১৬ সালে গোয়ায়। এরপর থেকে তারা একসঙ্গে কাজ করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এএপিতে যোগ দেওয়ার পর শিন্ডে পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় অঞ্চলে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হন। এরপর এক বছর গোয়ার নির্বাচনি প্রচারে কাজ করেন। তবে সেখানে এএপির জন্য কোনো আসন নিশ্চিত করতে পারেননি।
পরে তিনি এএপির মহারাষ্ট্র শাখায় যোগ দেন। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমবিষয়ক সমন্বয়ক এবং দলের যুব শাখার মহারাষ্ট্র আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যেভাবে সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বে
চলতি বছরের আগস্টে অভিজিৎ দীপকে শিন্ডেকে সিজেপির জাতীয় পর্যায়ের দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। তাকে দলের জাতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
তবে সিজেপির জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে শিন্ডের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গুজরাটের দুই স্বেচ্ছাসেবক দীপকের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন।
দলের নেতৃত্বের ক্রমে দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পরেই শিন্ডের অবস্থান। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই তিন নেতা দলের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
শীর্ষ তিন নেতার আটকের পর শিন্ডেকে আন্দোলনের দায়িত্ব দেওয়াকে তার সাংগঠনিক অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যন্তর মন্তরে যাওয়ার আহ্বান
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে শনিবার সকালে আটক করা হয়। তারা মুম্বাই থেকে আসা একটি বিমানে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে পৌঁছানো ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতার মধ্যেই তাদের আটক করা হয়।
আটকের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দীপক জানান, তিনি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হলে শিন্ডে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন। ভিডিওতে তিনি সমর্থকদের শিন্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
এরপর শিন্ডে সমর্থকদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন থামানো যাবে না বলে বার্তা দিয়েছেন। তিনি যন্তর মন্তরের পরিবর্তে বাধা দেওয়া স্থানেই বিক্ষোভ গড়ে তোলার কথা বলেন।
শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় এখন সিজেপির আন্দোলন কোন দিকে এগোয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে শিন্ডের নেতৃত্বের ওপর। নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে তার ভূমিকা তাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
