বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০ নারী থেকে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন যুবক

বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ, দামি কফিশপে আড্ডা ও দামি গাড়ির ছবি দিয়ে সাজানো ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখে বিক্রান্ত তোমরকে একজন সফল ব্যবসায়ী বলে মনে হতো। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত বিলাসবহুল ও জাঁকজমকপূর্ণ। কিন্তু পুলিশ বলছে, ২৩ বছর বয়সী এই তরুণ এসব ছবি ব্যবহার করে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে ২৪ লাখ রুপি (প্রায় ৩১ লাখ ২৪ হাজার টাকা) হাতিয়ে নিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্রান্ত তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি দেখিয়ে তরুণীদের আকৃষ্ট করতেন। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিতেন। তবে কারও সঙ্গেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেননি তিনি। এর মধ্যে নানা কৌশলে প্রায় ২০ তরুণীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
করোল বাগ থানায় কর্মরত এক নারী কনস্টেবল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। দিল্লি পুলিশ বিক্রান্তকে বুরারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, নিজেকে ধনী ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং নারী কনস্টেবলদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করতেন বিক্রান্ত।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্রান্ত দামি গাড়ি ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের আকৃষ্ট করতেন। তাদের বিশ্বাস অর্জন করে বিয়ের আশ্বাস দেওয়ার পর নানা অজুহাতে টাকা আদায় করতেন। এ ছাড়া আট ঘণ্টার জন্য বিলাসবহুল গাড়ি ভাড়া করে নারী কনস্টেবলদের কাউকে কাউকে নিয়ে ঘুরতে বের হতেন তিনি। বিক্রান্তের প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ২০ জন নারী কনস্টেবল। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সবাই একই ব্যাচের।
তবে প্রতারণার শিকার কয়েকজন নারী এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি।
পুলিশ জানায়, বিক্রান্তের প্রেমিকা দিল্লি পুলিশের একজন নারী কনস্টেবল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রেমিকার ব্যাচমেটদের মাধ্যমে নারী কনস্টেবলদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন বিক্রান্ত। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থের লেনদেনে বেটিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। কীভাবে অর্থ স্থানান্তর ও ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত করছেন কর্মকর্তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগে দিল্লিতে বিক্রান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পাঁচটি এফআইআর হয়েছে। মায়াপুরি, হরি নগর, ইন্দরপুরি ও পূর্ব জেলা সাইবার পুলিশ থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গত জুনে জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন বিক্রান্ত। বর্তমানে কেন্দ্রীয় জেলা সাইবার পুলিশ থানা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মামলাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।


