logo

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন আন্দোলনকারীরা?

রয়টার্স
রয়টার্স
এনডিটিভি
এনডিটিভি
হিন্দুস্তান টাইমস
হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন আন্দোলনকারীরা?
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি পোস্টার হাতে দাঁড়িয়ে আছেন এক আন্দোলনকারী। ছবি: দ্য ফরেন পলিসি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠীর আন্দোলন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার আশঙ্কা এই বিক্ষোভের মূল কারণ।

আন্দোলনকারীরা নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ও যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছেন।

ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মৃত, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করার উদ্যোগের আড়ালে বহু বৈধ ভোটারও ভোটাধিকার হারাতে পারেন।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও অনুপযুক্ত নাম বাদ দিয়ে তালিকাকে নির্ভুল করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, কমিশনের ভেতরে মতবিরোধ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তির ঘটনা প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও নথির সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নির্বাচন পরিচালনাকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া জনসমক্ষে স্বচ্ছ হওয়া উচিত।

সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বঞ্চিত করার আশঙ্কা

আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘু, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সমর্থকেরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের আশঙ্কা, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়লে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

বিরোধী দলগুলোর ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ

কংগ্রেসসহ বিভিন্ন বিরোধী দল ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোধী নেতারা এই প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরি’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের একাংশ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (EVM) পরিবর্তে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের দাবিও তুলেছেন। তাদের মতে, নির্বাচনি ব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভোট গ্রহণ ও ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

আদালতের হস্তক্ষেপ ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আইনি বিতর্ক এবং আদালতের হস্তক্ষেপের বিষয়টিও আন্দোলনের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আন্দোলনকারীরা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ চান।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন আইন ও নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগই আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, বৈধ ভোটারের অধিকার এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা—এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি সামনে এসেছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তবে আন্দোলনসংক্রান্ত নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার দাবি, কমিশনের অভ্যন্তরীণ আপত্তি এবং সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের বিবরণ প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।