বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ-সংকট নিয়ে আলোচনায় জাতিসংঘে বসছেন বিশ্বনেতারা

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে অবস্থান করছে জাতিসংঘ। এর মধ্যে এক টেবিলে বসতে যাচ্ছেন বিশ্বনেতারা। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ কিংবা আফ্রিকায় চলমান সংঘাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচিত সংকটের মধ্যে এই বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংকট সমাধানে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রায় ১৩০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান।
এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি। অধিবেশন মঞ্চে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উপস্থিত থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও নানা পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সংস্থাটির সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান কমিয়েছেন এবং জাতিসংঘের কয়েক ডজন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
রয়টার্সের তথ্যমতে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। চীনের প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিং নিউইয়র্কে যাবেন না। তবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এতে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
মনোবল ও আর্থিক সংকটের পাশাপাশি ৮০ বছর বয়সি এই সংস্থার পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষে শেষ হবে। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে এখনও কোনো সুস্পষ্ট প্রার্থী নেই। কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ইউক্রেন, এআই ও মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে পারে। এর মধ্যে আরব নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও থাকতে পারে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছরেরও বেশি সময় পর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিচার্ড গোয়ান বলেন, ‘আমরা আর বলব না যে জাতিসংঘ পতনের মুখে। তবে আমরা বলব, এটি একটি অনির্দিষ্টকালের সংকটে আটকে আছে। জাতিসংঘ হয়তো গত বছরের মতো জরুরি পরিচর্যায় নেই, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি ট্রমা সেন্টারে আটকা পড়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’
চলতি সপ্তাহে নিয়মিত বাজেটে ৭২৫ মিলিয়ন ডলার চাঁদা পরিশোধ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাধিকার হারানো এড়াতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সংস্থাটির কাছে দেশটির এখনও এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পাওনা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ব্যয় সংকোচন ও সংস্কারের জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
কে প্রথমে ভাষণ দেবেন?
১৯৪৫ সালে ৫১টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। এ ছাড়া ভ্যাটিকান, ফিলিস্তিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি পায়। ঐতিহ্যগতভাবে সাধারণ পরিষদে প্রথম বক্তব্য দেয় ব্রাজিল। পরিষদের কার্যক্রম শুরুর দিকে অন্য দেশগুলো যখন বক্তব্য দিতে দ্বিধা করছিল, তখন ব্রাজিলই প্রথম বক্তব্য দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সেই থেকেই এই রীতি চলে আসছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের আয়োজক দেশ হিসেবে দ্বিতীয় বক্তব্য দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর সাধারণত পদমর্যাদা এবং আগে নিবন্ধনের নীতির ভিত্তিতে বক্তব্যের ক্রম নির্ধারণ করা হয়। রাষ্ট্রপ্রধানেরা প্রথমে বক্তব্য দেন। এরপর উপ-রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, মন্ত্রী এবং নিম্ন পদমর্যাদার প্রতিনিধিদলের প্রধানেরা বক্তব্য দেন। নেতাদের ১৫ মিনিটের সময়সীমা মেনে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া দীর্ঘতম ভাষণগুলোর একটি ছিল ১৯৬০ সালে কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দেওয়া ভাষণ। সেটি প্রায় ৪ ঘণ্টা ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। ২০০৯ সালে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের বেশি সময় ধরে ভাষণ দিয়েছিলেন।

