
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পর বড় ধাক্কা খেল সৌদি আরব। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এতদিন বিকল্প জলপথ দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে আসলেও এবার সেই পথও বন্ধ হয়ে গেল।
লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে রিয়াদের কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেবে না ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে আনসারুল্লাহ হুথির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে তিনি এও দাবি করেছেন যে, সৌদি জাহাজ ব্যতীত বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ইয়াহিয়া সারির বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল অব্যাহত রয়েছে; তবে সৌদি জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটছে, কারণ সেগুলোকে এই জলপথ অতিক্রম করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়, কেবল তখনই তারা সৌদি জাহাজগুলোকে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে।
আলজাজিরার পাওয়া অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই, যদি না কোনো নৌযান সৌদি নৌ চলাচলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। সৌদি আরবের প্রধান উদ্বেগও এ বিষয়টি ঘিরে। এ কারণেই দেশটি মোচা শহরে আনসারুল্লাহ হুতির বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
খবরে বলা হয়েছে, সৌদি যুদ্ধবিমান দিয়ে কয়েক দফা বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল মোচা শহরের বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি আনসারুল্লাহ হুতিরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল।
লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার বড় একটি অংশ আনসারুল্লাহ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিষ ও মায়ুন দ্বীপপুঞ্জও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির উত্তরে অবস্থানের কারণে দ্বীপগুলো ব্যবহার করে জলপথটির ওপর নজরদারি চালানোর সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
ফলে বাব আল-মান্দেব দিয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের ওপর হুতিদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। এমনকি সৌদি জাহাজগুলোকে আরব সাগরের কাছাকাছি কোনো এলাকা দিয়েও চলাচল না করার নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর পেছনে তাদের ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো ভারত মহাসাগর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
